Home কবিতা আশ্চর্য পাখির ডানা
আশ্চর্য পাখির ডানা

আশ্চর্য পাখির ডানা

95
0

আশ্চর্য পাখির ডানা

এই মরণ দূরদেশ!

আমাকে সাজিয়ে দাও-

একটি পার্পেল পাখির পালকে

যেন এই ঘুটঘুটে অন্ধকারের ভেতর
পাতারা বাজাচ্ছে তার সেতার
আর আমার মুখ-

গেঁথে আছে গাছে গাছে

যে সুরের কোনো দিক নেই-

কিংবা কোনো কলহ!

যতোই চিৎকার করি-
কোনো ভাষাই ফুটে না আর

এ কেমন দেশ!
এ কেমন মায়া!

পথ ও পাথরের উপর প্যারালাল পাঁপড়ি-
তার সব টিউনিং আছড়ে ফেলেছে।

সে ছিলো ভুল বাড়ি-

ভুল বিলাপ

তবুও ফুলের অবয়বে ফুটেছে-
একটি মেয়েমানুষ

ছোট্ট সে বসন্তে!

তার পিঙ্গল চোখ, চয়ন-
বিবিধ বাতাসে ভরা দেহ

বহু লগ্ন বেয়ে দূরে একাকী

কাকে কী বলেছে-

কে জানে!

সে ভাষা কী বর্তুল?
সে ভাষা কী বিহ্বল?

আমাকে বাতাসে ভাসিয়ে দাও-
আর টুকরো টুকরো যতো ইশারা
আমি দেখছি-

তাতেই উড়ে যাচ্ছি…

আমার ভেতর এক আশ্চর্য পাখির ডানা।


ঋতু

অনিবার্য এই ঋতু!

আমি ছোট্ট হয়ে আসছি-
যেন মালা থেকে একটি পুঁতির হৃদয়
ছুঁড়ে ফেলা হলো-

এবং আমাকে

উড়িয়ে নিয়ে গেলো আকাশ।

দূরে,বহুদূরে-
এইসব গণনা করে কে?

ফের বসন্ত আসে-
যে হাওয়ায় ডুবে থাকে বীজ
উৎফুল্ল গাছের ভেতর

তোমার মুখ-

আমি দেখছি…

একটি সোনার রিং পড়ে বসে আছো-
মৃদু আলো-মৃদু অন্ধকারে।


মুহূর্ত

আমার কথা আটকে যায়!

বলছিলাম, কেউ তাকে ধরে আছে-
যেন আমার গলা ফেটে বের হবে একটি পদ্ম ফুল।

তাকে বলেছিলাম-

ধরে রাখো এই উন্মাদনা
ধরে রাখো এই কম্পন
ধরে রাখো আমার চুল

একদিন এই গভীর ঘরটায় শব্দ হবে-

হাল্কা এবং ভারি

যতোসব তোমার অলংকার
সোনা আর রূপায় বাঁধা।

সে মূহুর্ত, পাগলের ঘড়ি-
কাটায় কাটা মিলেমিশে একাকার!

দূরে, যেখানেই বাগান-
সেখানেই এলোমেলো পাখির ঝাঁক
তারা সকলেই আমার নামে অঙ্কিত
শুধু কালো পাখিটাই সবচেয়ে আলাদা!

আমার গলার ভেতর-

তোমার নাম ডেকে ডেকে

চক্ষু লাল করে বসে আছে।


নিরাপত্তা

নিরাপত্তার কথা বলো না-

ওটা আমার নাই
নিজের কাছেই নিজের নাই

ধরো, এক অন্ধ-
গান গাইছে

তুমি শোনছো তো?

দেখো বসন্ত খুব ছোট
যেমন আমার জীবন!

কালো-

রাতের পর রাত
আমি ঘুমিয়ে কাটাচ্ছি

আর তোমার পোশাকে ঢাকা আকাশ
চুমকি ছড়াচ্ছে

আমি অন্ধ-
নিরাপত্তা নাই

তুমি চাইলে ছুটে পালিয়ে যেতে পারো
দূরে, বহুদূরে…


অনঙ্গ

আমার তাই হলো-
তিনি যা চাইলনে।

আমি জন্মালাম
আমি ভালোবাসলাম
আমি মারা গেলাম

তিনি যা চাইলনে-

তাই তো হলো।

এবং আমি আমার-
আত্মা নিয়ে উড়তে থাকলাম

একটি পাখি মতো

দূরে, অনঙ্গ বাহানায়।

যেন নিজের দিকে তাকালেও
তোমাকেই দেখতে পাই।

(95)

সারাজাত সৌম জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি। প্রকাশিত বই : একাই হাঁটছি পাগল [কবিতা: জেব্রাক্রসিং, ২০১৮] নুর নুর বলে চমকায় পাখি [কবিতা: বেহুলাবাংলা, ২০২০]