Home গদ্য গ্যারেজ

গ্যারেজ

গ্যারেজ
98
0

না রিকশা গ্যারেজ, না কারও মোটর গ্যারেজ। এটা হলো রকস্টার গ্যারেজ। গ্যারেজের আসল নাম ভুলে গেছে সবাই। এমন কি, সে পৃথিবীতে কবে জন্মেছিলো কিংবা আদৌ জন্মেছিলো কি-না! নিজেও সেসবের অধিকাংশই ভুলে গ্যাছে। গ্যারেজ ভুলে গেছে তার শৈশব। কথা বলতে গেলে শৈশব নিয়ে তার বক্তব্য দাঁড়ায়, “খুন করতে করতেই তো জন্মালাম, শৈশব পাবো কোথায়?” এই পাওয়া গেলো তার জন্মের ইতিহাস। আর কিছুক্ষণ পরেই স্টেজ। অনেক বড়। কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত। সংসদ ভবনের সামনে বিশালাকার প্যান্ডেল, খোলা আকাশের নিচে লাইটের ওড়াউড়ি। খামার বাড়ি থেকে আরং, দুইপাশ থেকে রাস্তা বন্ধ। লক্ষ লক্ষ মানুষ সন্ধ্যা থেকে অপেক্ষা করে আছে রাস্তার দুইপাশ জুড়ে। যারা বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে এসেছিলো তারা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তাতে কিচ্ছু আসে যায় না গ্যারেজের। তার সিডিউল টাইম একটাই।

রাত দশটা। সে যেখানেই হোক। দুপুরবেলাতেই তার জন্য স্পেশাল ট্রান্সপোর্ট দেওয়া হয়েছিলো ইভেন্ট থেকে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইভেন্ট ট্রান্সপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছে। নিজের লাল টকটকে গাড়িতে করে ইভেন্ট ট্রান্সপোর্টের গাড়ির সাথে সাথে বের হয়ে আসে বাসা থেকে। সেটাও বিকাল ৪ টায়। ইভেন্ট কোম্পানি সময়ের অনেক আগেই আনতে গিয়েছিলো এই কারণে যে, তার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের একটা আপ্যায়ন আছে। দেশের সব’চে বড় আয়োজনে তো আর যেন তেন আপ্যায়ন করলে চলে না। তার উপর এই ইভেন্টের সাথে মন্ত্রী-মিনিস্টার এর মান ইজ্জত জড়ানো রয়েছে। যাইহোক, একই সাথে গ্যারেজের গাড়ি বের হয়ে এলেও, সেই গাড়িতে আসলে গ্যারেজ আসে নি। সবাই দেখেছে গ্যারেজ গাড়িতে, কিন্তু না, গ্যারেজ গাড়িতে নেই। গাড়ি থেকে বের হয়ে গ্যারেজের মতোই অন্য একজন এসে বসে আছে আপ্যায়নে। গ্যারেজের ডামি হিসেবে যে বসে আছে, কেউ ধরতে পারেনি যে, ইনি আসলে গ্যারেজ নয়। অন্যদিকে ডামিসহ গাড়ি বেড়িয়ে যাবার পর গ্যারেজ পুরনো কাপড় চোপড় পড়ে বাসা থেকে হয়ে রিকশা নেয়। তারপর সোজা, কালশি, কালশির সাংবাদিক পাড়ায় ঢুকে রিকশা ছেড়ে দেয়। কিছুক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়। সিগারেট শেষ করে একটা বিল্ডিঙয়ে ঢুকে লিফটের দশতালায় ওঠে। কলিংবেল চাপতেই কিছুক্ষণের মধ্যে দরজা খুলে যায়। সাথে সাথে দরজার ফাঁকে এসে জমাট বেঁধে ওঠে  অনন্য এক সুন্দরী। চুলগুলো উড়ছে বাতাসে, গায়ে লাল টকটকে পাতলা টিশার্ট, পরনে ডীপ ব্লু হাফপ্যান্ট। ছোট প্যান্টটা যেন তার থাই কামড়ে পড়ে আছে বহুযুগ ধরে। মুখে হাসি। গ্যারেজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নেয় মেয়েটির উপর থেকে।

ঢুকতে তো দাও…!

মেয়েটি হাসে,

যমকে আটকাবার ক্ষমতা কার আছে?

মেয়েটির কথার গুরুত্ব না দিয়ে একপাশ ঠেলে ঢুকে পড়ে গ্যারেজ। মেয়েটি দরজা আটকায়ে দেয়। ভেতরে ঢুকেই গ্যারেজ থ হয়ে যায়। বিহ্বলের মতো এদিক ওদিক তাকায়, “এতো স্বচ্ছ, পরিপাটি ঘর? কোথাও একটুকরো অতিরিক্ত সুতো পর্যন্ত নেই! পুরোটাজুড়ে একটা কালারফুল থ্রী-ডি পেইন্টিং, যেন এই ঘরের কোন সীমানা নেই, যেন অন্তত এক বাগান। বসবার জায়গা থেকে শুরু করে টি টেবিল, ড্রেসিং টেবিল আয়না, দেয়াল, ছাঁদ, সবকিছুই এক স্বচ্ছ রঙের তৈরি। যেন একটা আরেকটা মধ্যে গেঁথে গেছে রঙ দিয়ে। সব’চে আশ্চর্য্যের ব্যপার হলো, এটা যেন ঘর নয়, সীমাহীন এক বাগান। আসবাবগুলোর ডিজাইনও খুব আদ্ভুত ধরণের। একজনের বসার জায়গা থেকে আরেজনের বসার জায়গা উঁচু কিংবা নিচু। চেয়ার নয় যেন রঙের দোলনা, পাশেই এক ঝর্ণা কাঁদছে কলকল করে। তারপর একটু বাগান, ছোট থেকে শুরু করে দেওয়ালের কাছে ছাঁদ ছুঁয়ে ফেলেছে রঙ। যেন কোন দেয়াল নেই এই ঘরের। গ্যারেজ অবাক হয়ে ফিরে তাকায় মেয়েটির দিকে।

তুলি? আপনি তুলি তো?

মেয়েটি হাসে, হ্যাঁ, তুলি। আপনাকে তো আমি ডেকেছি, অন্য কেউ কেন থাকবে?

যাইহোক, কেন ডেকেছেন?

গ্যারেজের জিজ্ঞাসা এরিয়ে মেয়েটি ঘুরে দাঁড়ায়,

আগে বসুন, কফি খাবেন তো? নাকি অন্যকিছু?

অন্যকিছু?

হ্যাঁ, অন্য কিছু। ব্রাণ্ডি আপনার প্রিয়। বসুন, আমি আসছি।

বসার জায়গা নিয়ে গ্যারেজ কনফিউজড হয়ে গেলো। মুখোমুখি কিংবা পাশাপাশি দুইটা সিট নেই। আবার একই সমান উচ্চতার দুইটা চেয়ারও নেই। অপেক্ষাকৃত উঁচু চেয়ারে বসবে নাকি নিচুটাতে, কিছুই বুঝতে পারছে না। একটা সপ্তরঙ্গের একুরিয়ামের পাশে এসে দাঁড়ায় গ্যারেজ। পেছন থেকে তুলি এসে ডাক দেয়,

কই? আসেন, কথা বলি। আপনার তো যথেষ্ট সময় নেই হাতে।

গ্যারেজ এগিয়ে আসে,

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। শো আছে, প্রস্তুতি নেই।

মানুষ তো কখনোই প্রস্তুত হতে পারে না। সে যতটুকু প্রস্তুত হয়, ঘটনা শুরু হয় ঠিক তারপর থেকে।

তুলি চেয়ারের ডানপাশে বোতল আর গ্লাস রাখে। চেয়ারে বসতে বসতে, আর একটি চেয়ার দেখিয়ে দেয়। গ্যারেজ তুলির মুখোমুখি একটু উঁচু চেয়ারে বসে। গ্লাসে মদ ঢেলে নিয়ে দুজনে চিয়ার্চ করে। ঢোক শেষ করে গ্যারেজ তুলির দিকে তাকায়,

এবার বলুন, কেন ডেকেছেন।

খুন করতে।

খুন করতে? চমকে ওঠে গ্যারেজ।

কি বলছেন এসব? আমারে কি ভাড়াটে খুনি মনে হয়?

এবার তুলি উঠে দাঁড়ায়। মূহুর্তের মধ্যে খেপে ওঠে রীতিমত,

বোকাচোদার মতো কথা বলছেন কেন? খুন করতে পারবেন না তো কার বাল ছিঁড়তে মিউজিক করেন?

তুলির ক্ষোভ আর বেগতিক ভাষার আছড়ে পরার শব্দে থ হয়ে যায় গ্যারেজ। বলে কি মেয়েটা! কোনদিন দেখা নাই, সাক্ষাৎ নাই। চিনি না জানি না। প্রথম দেখাতেই একটা মেয়ে তারে খুনের অর্ডার করছে! এইটা কে’রে বাল! ভেতরটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গ্যারেজের। কিন্তু কিভাবে যেন নিজেকে সামলে নেয়। এর আগে কখনো এমন সামলে নেওয়ার মতো বুদ্ধিমত্তার ক্রিয়া দেখা যায় নি গ্যারেজের মধ্যে। নিঃশ্বাসের ভার ছেড়ে দিয়ে হালকা হয় সে,

মিউজিকের সাথে খুনের কি সম্পর্ক, তাই তো বুঝতে পারছি না।

গ্যারেজের মুখের দিকে তাকিয়ে শান্ত হয় তুলি, চেয়ারে বসে আস্তে করে বলে,

পারছেন না? পারছেন না বলেই তো বালের মিউজিশিয়ান আপনারা। শোনেন, সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আপনার এই স্টেজ ধরতে না পারলে আপনার জান চলে যেতে পারে, জানেন তো?

মানে? কি বলতে চাইছেন আপনি?

এবার আরও মদ ঢালে তুলি।

ইভেন্টের সাথের সরকার জড়ানো। ক্ষমতাবান লোকেদের ফাঁসিয়ে জানে বাঁচতে পারবেন না, ভেরি সিম্পল। সহজ হন, মন দিয়ে শুনুন, চোখের ফাঁক দিয়ে মন উড়ে গেলে চোখও বন্ধ রাখতে পারেন।

ততোক্ষনে ঘরের আলো বদলে গেছে। বদলে গেছে রঙের ফ্রেম। কেমন এক পাহাড়ী গুহার মতো মনে হচ্ছে এখন। সবকিছুই প্রায় মেটে রঙের। একমাত্র তুলিই নেশায় নীল হয়ে আছে। এইবার চেয়ার টেনে আরও কাছাকাছি এসে বসে তুলি। মুখ তুলে তাকায় গ্যারেজের দিকে, গ্যারেজ মুখটা খানিক নিচু করে চোখ রাখে তুলির চোখে।

শোনেন, ভয় নেই। আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। আমাকে খুন করার জন্য কেউ আপনাকে একটা প্রশ্নও করবে না। আমার সমস্ত কিছু লিখে দিয়েছি আপনার নামে। এবং উকিল ডেকে স্ট্যাম্প করিয়ে নিয়েছি, এটা আমার আত্মহত্যা। আমি আপনার হাতে স্বেচ্ছায় খুন হতে যাচ্ছি।

মানে? আমি আপনাকে খুন করবো কেন? কি পাগলামী করছেন?

পাগলামী নয় সত্যি বলছি। আমি আপনাকে আমার সমস্ত সম্পত্তির বিনিময়ে ভাড়া করেছি, শুধু মাত্র আমাকে খুন করবার জন্য। আপনি এখন আমাকে ভালোবাসবেন, এবং এখন থেকে পৃথিবীতে শুধু মাত্র আমাকেই ভালোবাসবেন এবং ভালোবাসতে বাসতে খুন করবেন আমাকে। সেটা যতো দ্রুত শুরু করবেন ততোই আপনার জন্য সহজ হবে।

গ্যারেজ নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো, সেও তুলির মতো নীল হয়ে গেছে। কেমন নাই হয়ে যাচ্ছে সে একটু একটু করে। চোখের সামনে থেকে সবকিছুই একটু একটু করে সরে যাচ্ছে দূরে, শুধু তুলি ছাড়া। তুলি আরও কাছে এগিয়ে আসছে। খুব কাছে।

আসুন, ভালোবাসার এই সময়। এখন পর্যন্ত আমি আর কোন পুরুষ’কে ছুঁয়ে দেখি নি। আপনিই প্রথম যে আমার নিঃশ্বাসের শব্দ ছুঁইতে পারছে।

গ্যারেজ তুলিকে দুইহাতে জড়িয়ে ধরতে যাবে ঠিক এমন সময়, তুলি গ্যারেজের হাত ধরে ফেললো,

উঁহু, আমিই আমাকে ধরতে চাই তোমার হাত দিয়ে।

তুমি? গ্যারেজ যেন আরও বেশী জ্বলে উঠলো। ইয়েস। দুজনেই উঠে দাঁড়ালো। তুলি অক্টপাসের মতো জড়িয়ে ধরলো গ্যারেজকে। গ্যারেজও মিশে যাচ্ছে তুলির নীল রঙে। ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো গ্যারেজ। কোমর পেঁচিয়ে ধরলো, এদিকে তুলি একটু একটু করে গ্যারেজকে ঠেলে নিয়ে একসাথে বিছানায় গিয়ে পরলো। বিছানায় গিয়ে দুজনই উলঙ্গ হয়ে গেলো। চরম উত্তেজনায়, তুলিকে নিচে ফেলে বাঘের মতো গর্জন করে উঠলো গ্যারেজ। ঠিক তখনই প্রবেশের মুখে বাঁধা দিয়ে বসলো তুলি।

উঁহু, শর্ত আছে।

গ্যারেজ উত্তপ্ত জোড়া চোখ নামিয়ে নিয়ে এলো তুলির চোখে,

শর্ত?

হু, শর্ত। শর্ত হলো, আমাকে খুন করতে হবে। খুন করতে হবে তোমার পতনের আগে। সে যেকোন উপায়েই হোক। গলা টিপে হোক, চাকু মেরে হোক, অথবা গুলি করে। সব অপশনই আছে। কিন্তু খুন করার আগে কিছুতেই যেন পতন না হয়।

পতনের আগে খুন? তার আগে যদি পতন হয়ে যায়?

তাহলে আমি তোমাকে খুন করবো।

বালিশের নিচ থেকে চাকু, পিস্তল, দড়ি টেনে বের করে বিছানায় ছড়ানো নিজের উলঙ্গ শরীরের দুই পাশে ছড়িয়ে দিলো তুমি। উপরে অনেকটা পাথরের মতো চেপে আছে গ্যারেজ। তুলির উপর রাগে ক্ষোভে ফেটে পরলো সে। “কে এই মেয়ে? কি চায়? উফ!”

তাহলে এই সেক্সের মানে কি? এমনিতেই তো খুন করতে পারি।

না, পারো না। আমি অপূর্ণতা কিংবা সম্ভাবনা, কোনটা নিয়েই মরতে চাই না। তোমার পতন পৃথিবীর এক সম্ভাবনা আর সেক্স না করলে তো যে কাউকে দিয়েই খুন করাতে পারতাম। না, তোমাকেই চাই আমার।

এইসব বলতে বলতে, চরম উত্তেজনাবসত নিজের সমস্ত ইচ্ছাশক্তি ঢুকিয়ে দিলো তুলির মধ্যে। আচমকা এক ধাক্কায় তুলি চিৎকার করে উঠলো। তুলির চিৎকারে ভয় পেয়ে গেলো গ্যারেজ। দাঁতে দাঁত কামরে চোখ বন্ধ করে কানতে লাগলো তুলি। গ্যারেজ তুলির শরীরের উপর থেকে উঠে পরলো। তুলি হাতের ইশারায় মদের বোতল দেখালো। বিছানা থেকে নেমে গ্যারেজ মদের বোতল এনে তুলির হাতে দিলো। ততোক্ষনে খানিকটা রক্ত ঝরে পরেছে বিছানায়। লেগে আছে গ্যারেজের ফুসে ওঠা লিঙ্গের গায়েও। মাথা উঁচু করে বেশ খানিকটা মদ খেয়ে নিলো তুলি। এইবার নিজেই দুই হাতে জড়িয়ে নিলো গ্যারেজকে। তুলির তীব্র আকর্ষন উপেক্ষা করে হলেও গ্যারেজ খানিকটা সাবধান হয়ে উঠলো। এতোদস্বত্তেও ধমনীতে বইছে ভাঙ্গনের প্রবাহ। এপাড় থেকে ওপাড়ে, কোবরার মতো ঝারা কোপে, ভাঙ্গছে রক্ত। প্রবাহের পৃথিবী এক নতুন পথ তৈরি করে দিয়েছে যেন, যে পথে সে একাই যাত্রী। যেখানে ডুবে মরার বাসনা নিয়ে একা আসে সবাই। নিজের মৃত্যুরে লুকাতে চায় নিজের ভেতর।

তুলির মুখ হাতে তুলে নিয়ে পাগলের মতো আদর করে গ্যারেজ। তুলি এক পাগলা নদী, মোচর খায়, গড়িয়ে যায় গ্যারেজের নিচে, ঢেউ তুলে আছরে পরে বিছানার উপর। পাগলের মতো গ্যারেজ’কে পেঁচিয়ে ধরে সর্বাঙ্গ দিয়ে। নিজের হাতে মুখে তুলে দেয় বুক। “কলিজা খাও, আরও দাও সোনা, আরও, আরও গভীরে। এসো গ্যারেজ। প্লিজ, আমাকে মেরো না। আদর করো, আরও আদর করো। সারাজীবনের জন্যে আমাকে তোমার করে নাও। প্লিজ মেরো না, আমি আর মরতে চাই না গ্যারেজ। প্লিজ, আমাকে মেরো না। এসব কথা খুব দাম পায় না গ্যারেজের বুনো গতির ভিড়ে। চরম মুহুর্তকালের আগেই চোখে সারি সারি নৌকার ভেসে ওঠে তুলির কথাগুলো “খুন করার আগে পতন হলে আমি তোমাকে খুন করবো”। খুন তো করতেই হবে। সাথে সাথে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে গ্যারেজ। তুলির নাক-মুখ বন্ধ করে চেপে বসে গ্যারেজের মুখ। পেশিবহুল হাতের মধ্যে গুটিয়ে যায় তুলির বুক। দুইপায়ে প্যাচ দিয়ে ধরে তুলির পা। যোনিতে ঢুকানো গ্যারেজের ক্ষুধার্ত পুরুষাঙ্গ। তুলি যেন এক অজগরের মুখে আটকা পরে গেছে। গ্যারেজ প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে তুলিকে পেঁচিয়ে ধরেছে। প্রায় মিনিট বিশেক পর গ্যারেজ দম ছেড়ে দেয়। তুলির দেহ’কে চুরমার করে ছেড়ে দিয়ে একপাশে নেতিয়ে পরে গ্যারেজ। চিত হয়ে শুয়ে হাঁপাতে থাকে।

তারপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। নিজেকে দ্রুত রিকভার করার চেষ্টা করে। উঠে বসে। নেশায় চোখ ঘোলা হয়ে গেছে। সবকিছু আবছা। কি হয়ে গেলো এসব! বেসিনে দাঁড়িয়ে চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে নিলো। ঘাড় ভিজিয়ে, তোয়ালে দিয়ে মুছে দ্রুত প্যান্ট সার্ট পড়ে বের হতে যাবে এমন সময় মনে হলো যেন, পেছন থেকে তুলি ডাকছে, “আমাকে ছেড়ে যেও না। আমাকে ভালোবাসো, আমাকে আরও ভালোবাসো, প্লিজ”। ঘুরে দাঁড়ালো গ্যারেজ। নীল হয়ে বিছানায় পরে আছে তুলি। কি এক মহিমান্বিত রূপ গলে পরছে বিছানায়, স্তিমিত এক নীল নদী। গড়িয়ে পরছে আসমান হতে। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে তুলির দিকে তাকাতেই চোখ ভেঙ্গে গেলো গ্যারেজের। নীল তুলির মতো নদী বাহিকার পথে ছুটে যেতে লাগলো চোখের জল। নিজেকে আর কিছুতেই ধরে রাখা সম্ভব হলো না। লাফিয়ে পরলো, তুলির উপর। উন্মাদের মতো চুমু খেতে শুরু করলো গ্যারেজ। চিৎকার করে উঠলো। তারপর তুলির পাশে বসে, চোখ মুছলো গ্যারেজ। হাতে নিলো চাকু। পরস্পর হয়ে মুখ ফিরিয়ে রাখা উন্মুক্ত দুই দুধের মাঝ বরাবর বসিয়ে দিলো। ফিনকি দিয়ে ছুটে এসে রক্তাক্ত করে দিলো গ্যারেজের সার্ট। সে দেখলো, তুলির হাতের মধ্যে তখনো ধরা আছে রোল করা কিছু কাগজ। তুলি হাসছে। পৃথিবীতে এতো বিদ্রুপাত্বক হাসি এর আগে কখনো দেখেনি গ্যারেজ। তুলির হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কাগজটা খুলতেই দেখলো, আত্মহত্যার চিঠির কপি, সম্পত্তির উইলের কপি আর বাসা থেকে বের হবার নির্দেশনা।

এতক্ষণ পরে খেয়াল হলো, নির্দেশনা না থাকলে গ্যারেজের পক্ষে সারারাত চেষ্টা করেও এই ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব ছিলো না। কাগজে লেখা নির্দেশনা দেখে বাসা থেকে দ্রুত বের হয়ে এলো গ্যারেজ। রক্তাক্ত সার্ট-প্যান্ট। গলি থেকে একটা সিএনজি নিয়ে ছুটতে লাগলো সংসদ ভবনের দিকে। রাস্তায় সিএনজিওয়ালাকে দিয়ে সিগারেট কিনিয়ে নিলো। সিএনজিওয়ালা গ্যারেজকে দেখে ভয় পেয়ে গেছে। তার ভয় কাটিয়ে উঠানোর চেষ্টা করলে তা আরও জোরালো হয়ে উঠলো। খামারবাড়ি থেকে যেহেতু সিএনজি ঢুকতে দিলো না। সে সিএনজি নিয়ে ইন্দিরা রোড দিয়ে ঢুকে সরকারী কোয়ার্টারের মধ্যে ঢুকে গেলো। কোয়ার্টারের একপাশে সিএনজি গ্যারেজ, সেখানেই নেমে পরলো গ্যারেজ। ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে, ঢুকে পরলো এক অন্ধকার কোঠরে। নয়টা বেজে গেছে। গ্যারেজে ঢুকেই, তিনচারজন ড্রাইভারকে পাওয়া গেলো। এরা সকলেই গ্যারেজকে চেনে। রাতে গ্যারেজের গাঞ্জা খাওয়ার আখড়া এইটা। বহুকাল ধরেই এদের সাথে নেশা করে আসছে গ্যারেজ। গ্যারেজকে দেখেই এগিয়ে এলো একজন। সার্টে-প্যান্টে রক্ত দেখে ঘুপচির দিকে রাখা একটা সিএনজির মধ্যে ঢুকেই পর্দা টেনে দিলো।

আগে বাশিতে একটা টান দিয়া নেন, তারপর হুনতাছি।

তাড়াতাড়ি করে এক বাঁশি গাঁজা সাজিয়ে আনলো সে।সিএনজিতে আরও দুজন আছে। হাতে হাতে গাঁজা টানা শেষ করে একজন ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলো,

বস এইবার কন, কি অইছে?

ঢুলুঢুলু চোখে ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে গ্যারেজ বললো,

কিছু না। আর আধঘন্টা বাদে, এইখানে প্রোগ্রাম আছে আমার। গান গাইতে হবে।

মাত্র আধ ঘন্টা? এইখানে কিয়ের গান অইবো বস?

আমার গান হবে, আমার গান।

আপনে কি গান করেন বস, কিচুই তো বুঝি না। যাই কন বস, আপনের গান অতো ভালা না। তয় আপনে মানুষটা খুব ভালা।

গ্যারেজ মানুষ ভালা? একটু আগেই যে খুন করে এসেছে, যার সার্টে লেগে যাওয়া তাজা রক্ত এখনো শুকায় নি সে মানুষ ভালা? এদের কথাবার্তা অসহ্য হয়ে উঠলো। এখনই যাওয়া দরকার। নইলে ভীর ঠেলে ঢুকতেই দশটা পার হয়ে যাবে। অন্য একজন আরেকটা বাঁশি এনে হাতে দিলো,

জলদি টান দেন বস, আমি আপনারে এক টানে নামায়া দিয়া আসি।

বাশিতে টান দিতে দিতেই, অন্য একজন ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলো,

বস, মেলাদিন অইলো একখান কথা জিগাইবার চাই। সাহসে কুলায় না।

জলদি বইলা ফেল, পরে আর সুমায় পাবি না কইলাম। গ্যারেজ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বাঁশি আর একজনের হাতে পাস করলো।

না মাইনে, দুনিয়াত এতো নাম থাকতে আপনের নাম গ্যারেজ অইলো কেন?

এবার হেসে উঠলো গ্যারেজ,

ঐ সিএনজি টান দেনা বাপ। দেরী হয়ে যাচ্ছে তো।

অন্য একটা সিএনজিতে গিয়ে বসলো গ্যারেজ। দরজার ফাঁক দিয়ে জিজ্ঞেস করা ড্রাইভার’কে বললো,

আমি তো গ্যারেজই। ফ্রী পাইয়া, দুনিয়ার যা কিছু দেখতাছোস, সব কিছুই আমার ভিতরে পার্কিং কইরা রাখছে’রে।

এবার বিড়বিড় করতে লাগলো, আল্লা, মানুষ, চিন্তা, দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজ, রাষ্ট্র, ক্ষমতা, ভালো, মন্দ, সব সব সব শালা এসে চার্জ ফ্রী পার্কিং নিয়া রাখছে। আমি শালা একটা গ্যারেজ, গ্রেডলেস একটা গ্যারেজ।

অনেক বলে কয়ে আরং এর পাশ দিয়ে একদম স্টেজের পিছনে গিয়ে নামলো গ্যারেজ। ভাড়া দিতে গেলেও, ভাড়া নিলো না। ইচ্ছা করছে, ড্রাইভারটা খুন করে ফেলতে। শুধু মাত্র পাওনা ভাড়া না নেওয়ার জন্যই খুন করা উচিৎ এখন। উপযুক্ত সময় আর জায়গা পেলে সত্যিই খুন করে ফেলতে পারতো গ্যারেজ। পর্দা ঠেলে গ্রীনরুমে ঢুকলো গ্যারেজ। ডামিকে আস্তে করে ডাক দিলো। ততোক্ষনে ব্যান্ডের সকল মেম্বার স্টেজে উঠে গেছে। সাউন্ড ব্যালেন্সও শেষ। গ্যারেজের অপেক্ষায় অকারণে আরও এক দুইটা জ্যামিং করলো। স্টেজের পিছনে কেউ নেই এই মুহুর্তে। ভলান্টিয়াররাও সামনে চলে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সুপারস্টার’কে দেখতে পাবে। এইসময় স্টেজের পিছনে থাকার কোন মানে হয় না। চোখের পলকে গ্যারেজ ডামিকে চাকু বসিয়ে দিলো। এই শর্তেই তাঁকে ডাকা হয়েছিলো।

তারপর টেনে স্টেজের নিচে গুজে দিয়ে রক্তাক্ত জামা কাপড় নিয়েই উঠে এলো স্টেজে। বহুল প্রতিক্ষার অবসানে জোয়ারের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে দর্শক সারিতে। স্টেজের সামনে এক অন্যরকম আওয়াজ। চিৎকার চ্যাচামেচি। লাল নীল আলোর বিচ্ছুরণে নতুন মাত্র নিলো গ্যারেজের গায়ে লেগে থাকা রক্ত। কোন কথা না বলে স্ট্যান্ডবাই টিউনড গিটার হাতে তুলে নিলো। উল্টোদিক মুখ করে বাজানো শুরু করতেই ঝড় উঠলো দর্শকের সমুদ্রে। উন্মাদের মতো বাজাচ্ছে। গাচ্ছে না। এমন মিউজিক যেন ব্যান্ড মেম্বাররাও এর আগে কখনো শোনে নি। তার গিটারের ব্লুস সামনের দর্শকদের গলার রগ টেনে ধরলো, বুকে চেপে ধরলো কান্না। আর পাগলের মতো সকলেই চিৎকার করে উঠলো। টানা ত্রিশ মিনিট বাজিয়ে হাপিয়ে উঠলো স্টেজ। পৃথিবী স্তব্ধ করে দিয়ে থামলো গ্যারেজের গিটার। আজকের স্টেজ যেন পরলোকের কোন এক নরক। কেউ কারও সাথে কথা বলছে না, শুধু একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছে। সকলের চোখ পাথর হয়ে গেছে। এবার মাইক্রোফোন হাতে নিলো গ্যারেজ, চোখ বন্ধ করলো। হাটুতে ভর দিয়ে ঝুকে পরলো স্টেজে। মুখে মাইক্রফোন নিয়ে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে দম নিলো। লক্ষ লক্ষ দর্শকের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আছে। শুধু খোলা দুই চোখে পাথরের মূর্তির মতো তাকিয়ে আছে, একজন রকস্টারের দিকে, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্যারেজের দিকে। নিঃশ্বাস বড় হচ্ছে গ্যারেজের। ধীরে ধীরে স্পীকার থেকে আওয়াজ আসছে,

“প্রবাহমান নদী, ঠিকানাহীন, মা নেই বাপ নেই, তারও আছে গন্তব্য। সম্মুখে গর্জনের ঢেউ, নিভৃতে কাঁদছে কারা। আমার পাশে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তারা প্রত্যেকেই গারদখানা। তোমাদের এই উল্লাস, প্রতিটি প্রেমিকের মতো খুন হয়ে যাওয়া হৃদয় যেখানে বন্দি। ড্রামে যিনি ঝাপিয়ে পরেছেন রাক্ষসের মতো, প্রতিটি স্ট্রোকে তিনি মূলত খুন করেন আপনার অকাল আকাঙ্ক্ষা, বোধের ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠা ইমারত। যিনি বেইজ নিয়ে এসে আপনার সামনে খাঁড়া হলো, ন্যাতসি বাহিনীর সমস্থ গোলার স্টোর। তার সামনে আপনি হয়তো ভীত নন, কিন্তু নির্দিধায় তিনি আমাকে ভাড়ায় খাটান। লীড থেকে যে প্রবাহ নেমে এলো এতোক্ষনে, সাঁতার ভুলে আপনি এতক্ষণ সেই নদীতে ঝাপ দিয়েছিলেন, আপনি জানেন না। হিমালয় যে প্রবাহ হয়ে উদ্ধার পেতে খাজনা দিয়েছে শীব’কে। সেই নীল কেউ দেখেননি। নীল দেখা যায় না। আপনাদের জমাকৃত এই সকল গতি বিনামূল্যে পার্ক করার অপরাধে দন্ডিত করা হলো আপনাকে, আপনি প্রস্তুত হন। আপনার গাড়ি সরিয়ে নেন, আমার ভেতর থেকে সরিয়ে নিন আপনার খোদাকে। আমার ভেতর থেকে সরিয়ে নিন আপনার বিজ্ঞান আর আমার ভেতর থেকে সরিয়ে নিন আপনার পোষা আদরের সয়তান। আমি গ্যারেজ, আমার ভেতরে পার্ক করা আছে আমার সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান…

বাজাও।

এই মানুষ … …

ঘরের ভেতর ঘরের বসবাস

হাসফাস করে মানুষ কোথা যাস

মানুষের ভেতর মানুষ যাচ্ছে ঢুকে

নিজেকে বুঝতেই

এই মানুষ … …

গাইতে গাইতে কখন যে গায়ের সার্ট ছিঁড়ে উড়িয়ে দিয়েছে গ্যারেজ তার ঠিক নেই। স্টেজের সামনে এসে মানুষ কুত্তাপাগল হয়ে গেছে। চিৎকার করে লুটিয়ে পরছে নিজের ঢেউয়ের নিচে। আলো এক রকম স্থীর হয়ে যাচ্ছে যেন। যেন এম মহা নরকের মাঝখানে এসে নরকবাসির শেষ প্রার্থনা চলছে। এর মধ্যেই জমাট বাঁধতে বাঁধতে যেন একজন আরেকজনের মধ্যে গেঁথে যাচ্ছে। ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়ি যারাই আছেন, সকলেই নিজের জামা কাপড় খুলে ছুঁড়ে দিচ্ছেন আসমানে, একজন আরেকজনের উড়ন্ত জামার ডানায় পেঁচিয়ে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ছে কেউ কেউ, ধরতে পারছে না কেউ। একজন আরেকজনের জামা কাপড় টেনে ছিঁড়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এ এক মহাপ্রলয়। যেন কেউ আর ফিরে যাবার নয়। যেন মৃত্যুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে উল্লাসিত মানুষ নরক মুক্তির লড়াই করে যাচ্ছে, কে কার আগে মরতে পারে। মূল স্টেইজ থেকে সামনের দিকের ডাউন স্টেজে নেমে এলো গ্যারেজ। পায়ের দিকে ঝাপিয়ে পরছে মানুষের চাক। যে চাক থেকে ছুটে যাচ্ছে সেই পিষে যাচ্ছে পায়ের তলায়। লতার মতো বেয়ে বেয়ে কেউ কেউ গ্যারেজের প্যান্ট ধরার চেষ্টা করছে। এক সময় ধরেও ফেলে। তারপর মুহুর্তেই টেনে ছিঁড়ে নাই করে দেয় গ্যারেজের প্যান্ট। টান খাওয়ার সাথে সাথেই প্যান্ট খুলে দেয় গ্যারেজ। সম্পূর্ণ নগ্ন গ্যারেজ একদম স্টেজের মাথায় এসে দাঁড়ায়, স্পীকারে এক পা তুলে দিয়ে কোমর দোলায়…

গ্যারেজ গাচ্ছে,

শ্যাওলার মতো রঙ মৃতের ছায়া

মানুষ উঠেছে জেগে

ফুটে আছে কবর রক্ত হাতে

বিষণ্ণ সন্ধ্যার আগে

কলসিতে ভরা নুনের চড়ে

বন্দি হচ্ছে জেনেই

এই মানুষ … …

(98)

জাহিদ জগৎ রাজবাড়ী জেলার কালুখালিতে কোন এক ভাদ্রমাসে জন্ম। বর্ষার পানির উপর বাঁশের মাচায় ভাসতে ভাসতে যাত্রার শুরু। ভেঙেছেন, গড়েছেন - থামেন নি কখনো। নদী- জঙ্গল, পাহাড় ভেঙ্গে মানুষে মানুষে মিশে যাবার স্রোত বুকে নিয়ে লিখেছেন গান, কবিতা, উপন্যাস। অন্নদাস - লেখকের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। অচ্ছুত জীবন সম্পর্কে 'অন্নদাস' অদ্ভুত এক চোখ হয়ে জেগে আছে বাংলার চতুর্মুখে। 'সাপের খামার' তার দ্বিতীয়তম প্রকাশনা। ৯ টি গল্প নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি খামার। গানের মতোই দস্যু, পথে প্রান্তরে লড়াই করে বাঁচতে ভালোবাসেন এই দস্যু জগৎ।