Home কবিতা ঘুমঘোরে চোরামেঘ

ঘুমঘোরে চোরামেঘ

ঘুমঘোরে চোরামেঘ
54
0

গোপন রোদন

কাউয়াপাড়া উৎসবে দিন কাটে সবুজ অরণ্য
পাখির মুগ্ধতা গানে, প্রভাতে উঠানে শান্তি-মন
গোয়ালে পশুরচোখে বেদনার গোপন-রোদন
নিভে যাবে পৃথিবীর মায়া-টান ভোজের পুলক।
মেঘাচ্ছন্ন সূর্যঘাটে আনাগোনা বৃষ্টির নূপুর
সহসা উজ্জ্বল মুখ, পবিত্র আলয়ে কণ্ঠে-সুর
মাথানত মগ্ন-হয়ে পাথরে কপালে কান্না-ঝরে
নৈকট্য অর্জনে ত্যাগে আত্মশুদ্ধি রক্তের মোহনা।

নিরীহ প্রাণীর দেহ, নিরাকারে মনের তৃপ্তির
বিশ্বাসে স্বর্গের লোভে পরম্পরা আদম-হাওয়া
অনাদিকালে নিয়ম, আধুনিক সময়ে-জিজ্ঞাসা
মঙ্গল গ্রহের বুকে বসবাস পুরানো বিদায়।


কর্মফুল

স্বর্গের উঠান থেকে, মুখফিরে নিরিবিলি গ্রামে
স্মৃতিময় দিনগুলো হৃদয়-কপাটে উঁকি মারে
ছায়াঘেরা পরিবেশ সবুজ স্বরূপে মন দোলে
সুপ্রভাতে বারান্দায় দোয়েল-ঘুঘুর মন্ত্র শিস্।
শান্তির পায়রা কণ্ঠে কবিতা-ছন্দের খেলা করে
শূন্যতা টেবিলখাতা, বস্তাবন্দি আলোর মুখোশ
চোরামেঘ ঘুমঘোরে বিরহের স্বপ্নের বিলাপ
হতাশায় ডুবে থাকি নির্ঘুম আকাশে বোবা চোখ।

শুয়ে থাকা পালঙ্কের, প্রিয়তমা জেগে ওঠো শোনো
শৈশবে আদরমাখা অনুজ বৃক্ষের কর্ম-ফুল
জ্ঞানপাঠে পথ ভুলে, স্বশিক্ষিত কাঠের সেলাই
মালিকের মুদ্রাকক্ষে বাহুটানে শ্রমের সৌরভ
বেলাশেষে ঘরেফিরে মায়ের আঁচলে দেহ ঘুম
সত্যের মানুষ খুঁজে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব সতত।


আঁখিআঁকা

রাতপাখি কুহুকুহু চাঁদের বৃক্ষের ডালে ডালে
তারাগুলো ঘুমঘোরে জোছনার জোয়ার অথই
অচেনা মুগ্ধতা ঢেউ, আড়ালে আনন্দে জলে ভাসে
ভেসে যায় মোহনায়, আঁখিআঁকা সমুদ্র বিভোর।
জানালায় সূর্যহাসি মমতা ডেরায় উড়ে যাই
মুখোশে চেহারা ঢাকা, পেছনে তাকিয়ে দৃশ্য চোখ।


 জুয়ার আসর

মুখোশে প্রদীপ, নিচে অমানিশা জুয়ার আসর
চোরাই গুটির ভাগ, মুদ্রাকালো সম্পদে পাহাড়
বিচারে আড়ালে ডেকে, যুদ্ধপথে নিথর শরীর
নিষিদ্ধ জলের গ্লাস, স্বর্ণলতা কোর্টের চালান।

নিরীহ আকাশে তারা, মাথিনের স্বজন কাতর
হারানো শোকের ঢেউ, বোবার পাথরে কালো গ্রাম
মনের আনন্দে আসে, সৌন্দর্য সড়কে শান্তি বুকে
রাতের আঁধারে গুলি, গোলাপের মানচিত্রে মেঘ।

জ্বলে উঠে বজ্রপাত শহিদে রক্তের প্রিয় মুখ
লজ্জায় পতাকা কাঁদে, দুর্বৃত্তে পাঁজরে স্বপ্ন-পলি
স্বাধীন সবুজ মাঠে, খুনিদের রাষ্ট্রীয় পদক!
সৃষ্টির সম্মান ঢাকা! অশান্তির রাজ্যের উদ্বেগ।


আয়নাজল

জন্মশেকড়ের বেড়ে ওঠা স্মৃতি, সবুজে অরণ্য
দরজা সামনে ছায়া, আয়ুবৃক্ষ মায়ের পলক
রঙ্গন ফুলের রূপে, প্রস্ফুটিত মুগ্ধতা উঠান
হারানো শৈশব উঁচু পাহাড়ের অচেনা সুরত।

ঘামেধুলো দুষ্টুমির পূর্ণস্নানে পুকুরে সাঁতার
সুন্দর আনন্দ ঘেরা ছেলেবেলা নিভৃতে আঁধার
অসুস্থ গাছের দেহ,ঝরাপাতা উড়ে পড়ে স্তুপ
অম্লান আয়নাজল অন্ধচোখে স্বার্থের পৃথক।

খতিয়ানে টানাটানি একগন্ডা জমির ঠিকানা
পরসাথী মূর্খঘাটে সংসারেই ধানের ইঁদুর
লোভে-সুখে বামে-ডানে রক্তধন রক্তের গোসল
শব্দবাড়ি মেঘাছন্ন পিতামাতা স্বর্গের জানালা।

(54)

নিলয় রফিক জন্মঃ ৬ আগস্ট ১৯৮৩ মহেশখালী, কক্সবাজার।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ ১) বিশুদ্ধ বিষাদে ভাসি আমি রাজহাঁস, ২) পিপাসার পরমায়ু, ৩) নোনামানুষের মুখ, ৪) অজ্ঞাত আগুন, ৫)  আঁখিআঁকা আদিনাথ