Home কবিতা দাঁড়ানোর সীমানা
দাঁড়ানোর সীমানা

দাঁড়ানোর সীমানা

172
0

দাঁড়ানোর সীমানা

 

একজন মানুষ আরেকজন মানুষের কবরের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে


রুহের মাগফেরাত

বেঁচে থাকা অবস্থায় একমাত্র নরকেই বসবাস সম্ভব, স্বর্গে প্রবেশ করতে হলে মরতে হবে তোমাকে। এই কথা ছোটলোকগুলোর সম্মানে বড়লোকগুলো বইলা থাকে।


মাস্টারপিস

তানসেন রোড থেকে ডাবলডেকার জার্নিতে তানসেন গলা সাধছেন। মর্জিনা আপা স্বপ্নে সেক্স করছেন। অতঃপর বিউটিশিয়ানের সেয়ানা নজর কিউট কিউট সেলফিতে বদলাতে থাকলে, বদলাও শরীর, বদলাও সেক্স, মিনিস্ট্রেশন প্যাড। বদলাও লিলুয়া বাতাস, হাসন রাজা, পুরোনো বন্ধু। অ্যাথলেট থেকে ঘোড়া। ঘোড়া থেকে উড়োজাহাজ। এইভাবে ধারাক্রম। এইভাবে জোৎস্না মাখা ভাত, কাকাতুয়া গাছ, সেক্স পার্টনার। রেলগাড়ি ছেড়ে গেছে আমাকে। মাস্টারপিস হাতে আমি এখন কী করিব লাবণ্য? সুন্দর কাঁপছে। তানসেনের গলার ভিতর সুন্দর কাঁপছে। তানসেনের গান ঢেলে স্নান করছে লাবণ্য।


পেইনকিলার পাখি

জলপতনের শব্দে লুকিয়ে ছিল ঘুম। স্বপ্নসহ। ঘুমপোশাকে লুকিয়ে ছিল ঘুম। দুধের নিপলে শুয়ে চিন্তা করছিল ঘুম। বাকবাকুম ভোর। স্কুলগুলো হেঁটে যাচ্ছে শিশুদের দিকে। মরে গেছে স্কুলজীবন। জলের পায়ের কাছে বসে আছি। ঘুমকে ডাকছি। কিছুতেই জলপতনের শব্দ থেকে ঘুমকে পৃথক করতে পারছি না। ফলস পেইন। পেইনকিলার পাখি ঘুমের ডানায় উড়ছে। তখনো সকাল। জলপতনের শব্দের ভিতর লুকিয়ে ছিল ঘুম।


রূপকথা

মানুষের বাচ্চাগুলান কোটি বছর হাঁইটা আইসা দেখবার পাইল, মানুষের ছায়ার লগে হাটতেছে আল্লাবুড়া। মানুষের বাচ্চাগুলান বারোচোদা, ন্যাংটা হয় আর বাচ্চা পয়দা করে, দুধের বাট ধইরা ঝুইলা থাকে, অলমোস্ট বেইমান, আল্লাবুড়াকে বকাঝকা করে। বকা খাইয়া আল্লাবুড়া ঘুমায় থাকে। আর তখন বদখাইছলত মানুষগুলান ফুসুরফাসুর করে, মনে লয় বুড়ায় মইরা গেছে, বেবাকতে আইস, সময় হইছে, বুড়ারে ফালায় দিয়া নিজের ঠ্যাঙ দিয়া হাঁইটা যাই। পাছায় হাত দাও, মেবি ইবলিস তোমরার গোয়ার ফুটায় ফুঁ দিতাছে।


সেক্সপার্টনারের লগে গান শুনতেছিলাম

গান শুনতেছিলাম। দুলতেছিলাম। পুটকির ভিতর কাঁপতেছিলাম। তাকায়া ছিলাম লিঙ্গজীবী মিউজিকের দিকে। চিকন কোমড় নিয়া পাছার ওজন সামলাই কেমনে। কেমনে কী। চুতমারানি। গানের কথাগুলান নিতে পারতেছি না। কুত্তাচোদা আকাশ আউগাইয়া আসতেছে। হা করা আকাশ আমারে গিইলা ফালাইতেছে। সেক্সফ্রেন্ড আকাশকে ফুসলাইতেছে। সেক্সপার্টনার আমারে ফুসলাইতেছে। আকাশ নাচতেছে আর গান শুনতেছে। গান শুনতেছে আর দূরে সইরা যাইতেছে। পাছা দুলাইয়া দুলাইয়া আকাশের মেঘগুলান গান শুনতেছে।


বাসি ভাতের গন্ধ

মা মাগিরে কইলাম, লোকটা তোরে দাসী বানায় রাখছে, শুয়োরটারে ছাইড়া যাস না কেন? মায়ে মাতে না, একদম চুপ। তারপর যখন সন্ধ্যার ঝাঁপসা হইল তখন তারে আপনমনে বলতে শোনা গেলো, ‘কুত্তাটার ভাত খাওনের শব্দটা আলাদা, সেক্সি, আর সহজে আউট হয় না।’ বুঝলাম ওনারা একজন আরেকজনরে ছাইড়া না যাওনের অভ্যাসের ভিত্রে হান্দাই গেছে, ছাইড়া যাইবার সাহস হারাইছে। ওরে আমার খোদা, বুড়া শকুন, আমারে খাওয়াইয়া খাওয়াইয়া পেট বানায় ফেলতেছ। পাছায় পাছায় লেপটে আছে সংসার। বাসি ভাতের গন্ধে মাথা কাজ করতেছে না।


ভেনেটি ব্যাগ

ভেনেটি ব্যাগের ভিত্রে মাগি লাইফটা নিয়া ঘুরতেছি। লোকটা তখন পাখিরে ভাতের দানা বিলাইতেছিল। খানকি পাখি, দুই দানা ভাতের লাইগা মানুষরে রঙ লাগানো পুটকি দেখাইয়া বেড়াইতেছ? বাচ্চাটা কানতে শুরু করছে। শুয়োরটা আমারে লাগাইয়া লাগাইয়া যেই বাচ্চাটারে পয়দা করছে, সেই মাইয়া বাচ্চাটা। লোকটা তখনো পাখিগুলারে বাসি ভাত বিলাইতেছে। আমার পাছার কথা তখন ওর মনে ধরতেছিল না, কারো কথাই না। ও তখন পাখিগুলার রঙ লাগানো পুটকি দেখতেছিল। আমি বিছানা থাইকা মাইয়াটারে টাইনা নামাইলাম। ভেনেটি ব্যাগের ভিত্রে মারা খাওয়া লাইফটা নাচতেছে।


ভাত খাওয়া লাইফ

তখন খাটা পায়খানার চল ছিল। আন্ধা সক্কালে কেউ একজন হাগতেছে। শব্দ ভাইসা আসতেছে। সকালের নিরিবিলি শব্দগুলা হাগার শব্দের সঙ্গে মিইশ্যা ধ্যান তৈয়ার করতেছে, সেজদা তৈয়ার করতেছে।

সেজদায় গিয়া ভাতের ক্ষুধা পাইলে আমি খাটা পায়খানা থাইকা বাইর হইয়া আসলাম। আম্মায় কলতলায় বইসা বাসি থালাবাসন ধুইতেছে। থালাবাসনের গা-গতর থাইকা তখন ভাতের ঝোলগুলা পানির লগে পানি হইয়া যাইতেছে। পানি হইতে থাকা ভাত-খাওয়া লাইফ, আই লাভ ইউ।


মানুষ পয়দা করা

যেমন আছ ওইভাবে থাকো। নইড়ো না। আমি তোমারে দেখবার লাগছি। আমার ক্ষুধা পাইছে। আমি তোমারে খাইতে শুরু করবো। খাই-খাই লাগতেছে। খালি খাই-খাই মনে হইতেছে। যেইভাবে আছ ওইভাবে থাকো। ওইভাবে থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়া যাইবো। তখন আর কষ্ট হইবো না। তখন মনে চাইলেই তোমারে খাইতে খাইতে বইলা উঠবো, লাইফটা খুব সুন্দর। তা-ই না? মাই বেবি, ওইভাবে থাকতে থাকতে তোমার অভ্যাস হয়া গেছে। এখন তুমি আর কষ্ট পাও না। তোমার কষ্ট হয় না একটা আস্তা মানুষের বাচ্চারে পুটকির ভিতর থাইকা বাইর করতে। সেই জন্যই তো তুমি বাচ্চাটার দিকে তাকায়া

হাইসা ওঠো। কী সুন্দর। তা-ই না? ঠাপ খাইতে খাইতে অভ্যাস হয়া গেছে। ওইভাবেই থাকো। ওইভাবেই কব্বরের ভিত্রে হান্দায় যাও। বাচ্চার বাপের লগে তুমিও হাওয়া হয়া যাও।

(172)

শিমুল মাহমুদ শিমুল মাহমুদ তথাকথিত পন্ডিতগণের একাডেমিক ট্র্যাশ থেকে ঘোষণা দিয়েই দূরে রেখেছেন নিজেকে; অস্বীকার করেছেন যাবতীয় লিঁয়াজো-নির্ভর পুরস্কার ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক পিঠচাপড়ানো। তিনি আশির দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে তিন দশক যাবৎ সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের কাগজ কারুজ। এ পর্যন্ত তাঁর গ্রন্থসংখ্যা: ২৫। জন্ম ১৯৬৭ সালের ৩ মে। পেশা এবং নেশা: অধ্যাপনা। কর্মস্থল: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। পছন্দ: পাঠগ্রহণ, ভ্রমণ ও একাকিত্ব। অপছন্দ করেন মঞ্চলোলুপ আঁতলামো। প্রকাশিত গ্রন্থ : কবিতাগ্রন্থ : মস্তিষ্কে দিনরাত্রি (কারুজ : ১৯৯০), সাদা ঘোড়ার স্রোত (নিত্যপ্রকাশ : ১৯৯৮), প্রাকৃত ঈশ্বর (শ্রাবণ প্রকাশন : ২০০০, নাগরী সংস্করণ ২০১৯), জীবাতবে ন মৃত্যবে (শ্রাবণ প্রকাশন : ২০০১), কন্যাকমলসংহিতা (ইত্যাদি : ২০০৭), অধিবিদ্যাকে না বলুন (ইত্যাদি : ২০০৯), আবহাওয়াবিদগণ জানেন (চিহ্ন : ২০১২), বস্তুজৈবনিক (নাগরী : ২০১৬), কাব্যকথা কাকবিদ্যা (অনুপ্রাণন : ২০১৬), সমূহ দৃশ্যের জাদু (চৈতন্য : ২০১৮), ভাষাদের শস্যদানা (বেহুলাবাংলা : ২০১৯), দেশভাগ হইল একফালি নকশাদার লাল তরমুজ (বেহুলাবাংলা : ২০২০) গল্পগ্রন্থ : ইলিশখাড়ি ও অন্যান্য গল্প (নিত্যপ্রকাশ : ১৯৯৯, নাগরী সংস্করণ ২০১৭), মিথ মমি অথবা অনিবার্য মানব (পুন্ড্র প্রকাশন : ২০০৩, চৈতন্য সংস্করণ ২০১৮), হয়তো আমরা সকলেই অপরাধী (গতিধারা : ২০০৮), নির্বাচিত গল্প (নাগরী : ২০১৬), মনোবিকলনগল্প (নাগরী : ২০২১) উপন্যাসগ্রন্থ : শীলবাড়ির চিরায়ত কাহিনি (ইত্যাদি : ২০০৭, কলকাতা ধানসিঁড়ি সংস্করণ ২০১৪, চৈতন্য সংস্করণ ২০১৬), সুইসাইড নোট (নাগরী : ২০১৯) প্রবন্ধগ্রন্থ : কবিতাশিল্পের জটিলতা (গতিধারা : ২০০৭, চৈতন্য সংস্করণ ২০১৭), নজরুলসাহিত্যে পুরাণ প্রসঙ্গ (বাংলা একাডেমি : ২০০৯), জীবনানন্দ দাশ : মিথ ও সমকাল (গতিধারা : ২০১০), বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ধারার কবিতা (গতিধারা : ২০১২), মিথ-পুরাণের পরিচয় (রোদেলা : ২০১৬), মিথ-ঐতিহ্য সমাজ ও সাহিত্য (নাগরী : ২০১৭)