Home কবিতা পাখির পিণ্ড থেকে এই ভাষা ছড়ায়
পাখির পিণ্ড থেকে এই ভাষা ছড়ায়

পাখির পিণ্ড থেকে এই ভাষা ছড়ায়

291
0

সময়
●●

আমি তোমাকে চাইছি—
অবশিষ্ট বাতাসের চূড়ায়

যেন আগুনের একটি মথ
ধপ করে জ্বলে উঠলো

আমাকে চিনতে পারো?

এই জীবন তোমার—
খানিকটা আমারও

কবে থেকে শুরু হলো?

এই তো শেষ আশ্রয়
চোখ বন্ধ করে আছি

পৃথিবীর কিনারায়—
পরিতৃপ্ত এখন।

আমাদের সময় ফুটন্ত ফুল

একবার আকাশে ছুঁড়ি
একবার বাতাসের ঢেউ

আমি তোমাকে চিনি
তুমিও আমাকে চেনো

যেন গুপ্ত এ আলো—
তোমার কোলে এসে ধীর

মাথা নুয়ে বসলো।


কোকিল
●●

বনে, কোকিলের কণ্ঠে সহসা ককটেল ফুটে
যেন গন্দক রঙের ফুল আমার—

সমস্ত দিনই বসন্ত।

এই দেখা—
চোখের মণিতে বসে সারাদিন
একজোড়া মানুষ—
পাখির মতো কিচিরমিচির করে।

তারা কতোদূর উড়ে যায়—
কতোটা আড়ালে বসে

চোখের উপর কথা বলে—

মরে যায় শেষে

কে জানে?

তবু পাখির পিণ্ড থেকে এই ভাষা ছড়ায়—
এই ভাষা বাতাসে বাতাসে

জলবায়ু তার নাম লিখে

যদি সে এতোটুকু শান্তি পায়!

আর আমি হিম—

কবোষ্ণ কোলে মাথা রেখে
শুধু তোমার মুখের উপর ফুল ছুড়ছি…


সমুদ্রের কিনারে
●●

আমি ভাগ হয়ে আছি—

রাতে এবং দিনে

আমি অসম্পূণ—
আমার হৃদয় তুমি ছাড়া

না সূর্যোদয় না সূর্যাস্ত

এরা কিছুই না

যদি সে পাখির ঠোঁট—
আমি তার রঙিন লেজ

কোনো কথার মূল্য নেই—

সে কথা তুমি ছাড়া

যেন বেকার বাতাস
এই বসন্ত খাপছাড়া

আমি তো নিজেই গভীর ঘুম
তবু ওই মুখখানা সুন্দর ঘুমে

আলুথালু পড়ে আছে দূরে—
এক বিশাল সমুদ্রের কিনারে

যেন নুয়ে পড়া এক সোনার ঝিনুক
আমার শিশুটি তার পেটে খেলা করে!


মুখ
●●

আকাশ চমকায়—

ওই তোমার মুখ
মিলিয়ে গেলো হাওয়ায়
একটি গোলকের ভেতর—

দীর্ঘ রাত্রি

হীরার পাহাড়—

উই পোকাগুলো
ধীরে ধীরে ধসে দিচ্ছে
বাতাসের সকল হাত-পা—

বলে ত্রাহি ত্রাহি…

আমার আকার—

সে একার নয়
এই ভাষা ভীষণ জলে—
এই ভাষা মস্ত পাগলে—

গিলছে আকাশ।

পুনরায়, পুনরায়—

ওই তোমার মুখ
বিদ্যুতে ডুবে গিয়ে ফের
যেন আচমকা ফিরে এসে—

আমাকে ডুবায়!


আজ কি বৃষ্টি হবে?
●●

যেন আমি ময়ূরের পেখম

ছায়ায় ভাসমান—

আজ কি বৃষ্টি হবে, বন্ধু?

এই বনে নানান ফুল

কি আচর্য!

এরা আমার কাছে প্রশ্ন—

আমারই উত্তর

ফুটে আছে এখানে সেখানে

আর তুমি নিরব—

কি ভাবছো?

এই আমার ছায়া তোমার পেছনে

দাঁড়িয়ে কখনোবা যেতে যেতে

একটা গাছের ভেতর ডুবে গেলো

ও আমার বন্ধ, আমার চোখ—

আমি এক ঝলসিত মাটি

মূর্তির মতো—

আমাকে পুতে দাও

আজ কি বৃষ্টি হবে?

একা একটি ময়ূর—

কিসের তাড়নায় নাচছে!

আমি ছায়া তার—

ছড়িয়ে আছি যার

সিথানে—পৈথানে…


মানুষ আমাকে বললো
●●

মানুষ আমাকে বললো—
ভালোবাসা হলো
এই…
এই…

ভালোবাসা এই সেই।

আমি তাদের কিছুই বলিনি—
শুধু চুপ থাকলাম
আর দেখতে পেলাম

তারা কিছুই না!

সারাজীবন অপেক্ষায় থাকলাম
যেন মৃত্যুর সময় তাকে ডাকি
এবং শুধু তাকেই দেখি

একটি আলো—

যে আলোটা আমার চোখের উপর
সারাজীবন ভেসে ছিলো—
আজ তাতেই ডুবে গেলাম

অথচ মানুষ আমাকে নানা কথা বললো—

ভালোবাসা হলো
এই…
এই…

এই…
সেই…

(291)

সারাজাত সৌম জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি। প্রকাশিত বই : একাই হাঁটছি পাগল [কবিতা: জেব্রাক্রসিং, ২০১৮] নুর নুর বলে চমকায় পাখি [কবিতা: বেহুলাবাংলা, ২০২০]