Home কবিতা পোকাদের সমবেতস্বর

পোকাদের সমবেতস্বর

পোকাদের সমবেতস্বর
196
0

পুরুষ

মিথের মত দ্বিধা নিয়া তুমি

যেকোন রেকেজের ধারে

ফুটে থাকা বেনামি ফুল।

তোমারে পরলোটা কে?

পড়ছেই বা কে তোমার

মৃত ভাষা- খালি খালি দাগলা

কামান, হানলা কৃপাণ, ছুঁড়লা

গুলি বেশুমার, মায়ের অর্ধেক

হয়েও পর হইলা নারীর!


যিশু

নিতান্ত ইগোর বশে বলা হইলো

ক্ক্রুরসিফাই। কাঠের ক্রস কাঁধে

আর পিঠে রোমান ইগোর আল্পনা

নিয়া যিশু হাঁটে, জুডাসের কাঁপা

কাঁপা গলা গিয়া বিঁধে বিশ্বাসীর

বুকে, কই, তোমাগো ফেরেশতা

বাহিনী কই? নিতান্ত ইগোর বশে

সেই গাছ যার কাঠে হয় যিশুর

প্রয়াণ, এরপর কোনদিন আর

বাড়ে নাই যতোটা বাড়লে তাতে

ক্রস হয়, হয় যিশুর উত্তরণ, কার?


দুপুর

এইখানে শুকনা পাতার ঢিবি

অপেক্ষায় পদদলিত হবার

টং ভর্তি লোক হাতে চা’র কাপ

আইলসা খুব আর চুপচাপ

ওইখানে একটা বোতলের ছিপি,

মদের। রোদ পড়ছে কড়া।

একদিন সজল ছিল সে বড়

ছিল প্রেমিকের হাতে ধরা

এইখানে অন্ধকার ক্যান

ছায়ার মতো বসে আছে?

সে কি নিজেরে ইজারা দিছে

ওই পল্টিবাজ চাঁদের কাছে?

জানলায় বসছে একটা পাখি

দেখতেছে এই সবকিছু

কিচ্ছুই আসে যায় না তার

চোখ আরেক পাখির পিছু।


সত্য

কোন সত্যের কাছে যাবো গো?

মানুষ যে সত্যরে অতিসত্য মানে

ফলে একই সত্যের কত না রূপ

কিছু অপরূপ কিছুবা বিরূপ

থিতু হয়ে আসে রক্ত শিরায় ধমনীতে

আর সত্যেরাও- নানান ঘাটের মড়া

রাশোমন কায়দায় মাথা কোটে দরবারে

মরে যায় তারপর আবার জগতের

নিহিল স্পিনে তাদের মৃদু পারকাসন

শোনা যায়- শোনা যায় বাংলোর

পোষা কুকুরের কান ছিঁড়ে নিয়া গেছে

কোন বন্য শুয়ারে- করাতধ্বনির মতো

পোকাদের সমবেতস্বর- স্বরলোপে

আর পুরান তাওয়ার মতো ঝুলে

আছে চাঁদ- ঘিরে আছে তারে তেলের

ছিটার মতো রংচটা নক্ষত্রসকল- আর

এসবের মাঝে বিপুল উৎসাহে মাথা

মারে উরাধুরা তেলাপোকাগুলা।


ছাতিম

একটা পতিত সন্ধ্যায়

অর্শ- পাইলস- গেজ

সারানির টিন মারতেছে

কারা যেন ছাতিমের গায়

বিমর্ষ ছাতিম;

তারে কেউ চেনে না পাতায়

চেনে না গীত- গোবিন্দে

চেনে কিনা মিথে

সর্পমোহন

যোনীগন্ধা

ইত্যাদি কিসসাকিসমিসে

আজ তারই উপসংহার

অধঃপতনের ষোলকলা

কী গন্ধ ঢাকবে আর,

কফিনই বা হইবে কী!


পলিমার

বুদবুদে বানানো মগজ এক্ষণে গোনা

যাইতে পারে তোমার বুদবুদ, পতিতার

দালালের মতো আমি করে যাই আমারই

ম্যুড সুয়িংয়ের ক্রিয়া ও কলাপ, পরিতাপ

হয় খুব, ইচ্ছা করে শালামার যাই, তরলে

মেশাই তুহিন স্ফটিক কিউব

তারপর তাকায়ে থাকি ঘোরে, তাদের

মিলিত অদ্ভুত প্রাকারে, জ্বলে আলোর

টিউব, এই স্থিতধী পলিমার, হাতে বর্শা-

বল্লম লয়ে যে বসে থাকে মাছে- ধমনীতে-

পত্রালু গাছে গাছে, কেবলই এক নিহিল

ডাইস, ক্ষুদ্রার্থে মাছ বৃহদার্থে মৃত্যুকূপ।

(196)

তানভীর হোসেন তানভীর হোসেন, জন্ম বগুড়া জেলায়। কবিতা লেখেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ দুটি, রাতের অপেরা (২০১৮), নিহিল পারকাসন (২০১৯)। কবি উপল বড়ুয়ার সাথে মিলে রক মিউজিকের ফ্যানজিন রকাহোলিক  সম্পাদনা করেন। এসবের পাশাপশি অনুবাদ করেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত অনুবাদগুলো হল, হারুকি মুরাকামির ওয়াইল্ড শিপ চেইজ (২০২০), মাকসুদুল হক এর হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশ রকঃ লেগাসি অফ আজম খান (২০২০), পাবলো নেরুদার ইন্টারভিউ (২০২০)।  এছাড়া প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে শহীদ আফ্রিদির আত্মজীবনী গেইম চেঞ্জার,  এরিক জারোসিনস্কির নাইনঃ মেনিফেস্টো,   লিওনেল মেসির আত্মজীবনী দ্যা ফ্লি