Home গদ্য বিদীর্ণ আলোর ধারা
বিদীর্ণ আলোর ধারা

বিদীর্ণ আলোর ধারা

61
0

ঘরের জানালা এক বিরতিহীন টেলিভিশন৷ এই পথে বর্ণিল আকাশ দেখা যায়, চলন্ত পাখি গোণা যায়৷ অসময়ে মুগ্ধ হয়ে বসে থাকা যায়৷ বৈশ্বিক ব্যাসার্ধে সুদীর্ঘ শ্বাস উড়িয়ে দেয়া যায়৷ জানালা পার হতেই ওদের ডানা গজায়— পাখি হয়ে উড়ে যায়৷ একেকটি দীর্ঘশ্বাস কেন তোমার কাছে পৌঁছে না? তোমার পায়ের কাছে৷ তোমার করকমলে!

নাহ্ এভাবে না, বুঝতে পারছি, এভাবে হচ্ছে না ঠিক৷ সরু গাছ হেলে পড়লো অন্যের বাড়ি! ন্যায় হলো? গাছেরও আছে কি নীতি-নৈতিকতা! মানুষহীন হয়ে উঠতে দুর্বোধ্য সংগীতে বেড়ে উঠছি৷ অসাধ্য এ রাগ? যন্ত্রে উঠলে পরে গলার সংগীতে জাগবে সে, জাগুক৷ কিছু কি বেশি হয়ে যাচ্ছে? ফিরতি জলের মতো, বারবার ফিরিয়ে আনতে চাই—৷ আবহাওয়া দফতর বলেছে, জানে না জলের কথা— মেঘের খবর৷ আকাশে তাক করে শ্বাসের প্রোটিন, ভাবছি পড়বো প্রেমে, লিখবো রোদের কথা৷ মাথা ধরে খুব, ঐ তো আগেরই মতো, ঝিমঝিম করে৷ কোথাও কোনো বদল নেই৷ বাদল নেই৷ এ ‘বাদল’ সে বাদল নয়৷ বাদল আমার বন্ধুর নাম৷ ছোট্ট প্যারাগ্রাফ লিখেছিলাম যাকে নিয়ে, খুশি হয়ে স্যার উপহার দিয়েছিলো৷ স্যারকে বলা হয়নি, বাদলকে আমি পছন্দ করতাম কী না জানি না৷ তিনি কখনো জানবেন না, তার দিকে ছুঁড়ে দেয়া সকল কাগজ মিথ্যে, সকল প্রেম মিথ্যে, সকলই সকল— তুচ্ছ আলো!

বাদল নিয়ে আর এক শব্দও নয়৷ রোদের কথা হবে৷ খাতার পৃষ্ঠাজুড়ে চিকচিক করবে রোদ্দুর৷ কবিতায় ঝিলমিল রোদ্দুর হবে হোক৷ হয় না যেন মনে, রিম-ঝিম-ঝিম বৃষ্টির মতো শোক!

হাঁটতেছিলাম তোমার ভেতর দিয়ে
পুরোনো দেয়াল উঠছে হাঁফিয়ে৷

নদীর ধারে জল পতনের স্বর৷
তীব্র থেকে তীব্রতর হয়
গভীর রাতে গভীরতর ভয়৷
বিষাদ ধাতু এগিয়ে আসে যখন
নিশ্চিত করে আমার পরাজয়৷

ছাই উৎপাদন ছাড়া যে আগুনের কোনো সম্ভাবনা নেই, তার মূল্য ভেবে ভারাক্রান্ত মন৷ এই ভার বয়ে পৃথিবীর ওজন বেড়ে যাচ্ছে৷ মন ভালো হও— মন ভালো হও— সুস্থ-সহজ হও— প্রেমের শিকার হও—৷

চুপচাপ, মনে হয়, তবু যেন কেউ ওই পাড়ে আছে৷ কোনো কথা নেই, সাড়াশব্দ থেমে গেছে কত আগে! কখনো জলের মতো মৃদু বুদবুদ হয়ে জাগে! দু’ঝুটি চুল ঘুমিয়ে পড়েছে কবে…৷ ঘুমাচ্ছে কুয়াশা গুটিয়ে আস্তিন; থেমে থেমে আসে তুমুল বৃষ্টিদিন৷

ঘুমিয়ে পড়েছে শব৷ ঘুমিয়ে পড়েছে কোলাহল৷ ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম৷ ঘুমন্ত মার্বেল, শুধুই গড়িয়ে যায়৷ গড়িয়ে গড়িয়ে আসে বিদীর্ণ আলোর ধারা৷ আসে তীব্রবেগে! গতির সূত্র জানি না৷ ঘুমের মন্ত্র জানি না৷ জারিজুরি বন্ধ হলো সূত্রের অভাবে৷ গাছে উঠতে পারি না৷ মাছ শিকারেও অক্ষম৷ ঘুম থেকে উঠি আর ভুলে যাই এখন মধ্যরাত কী দুপুর! পাজেল মেলে না আমার৷ ওহ্ পাজেল… ওহ্…! তারও কি সূত্র ভুলে গেছি! কীভাবে ভুলে গেলাম? অথবা মনে হয় কখনো জানাই হয়নি৷ কী করে জানবো, আমি তো মূর্খ আকাঠ৷ স্বাদহীন গ্লিসারিন৷ অনেক চেষ্টা করতে হলো৷ মেলালাম হলুদ পাজেল৷ হলুদ পাহাড় দেখে হলুদ মেলালাম, মনে হলো৷ সত্যি কথা: হলো না৷ পৃথিবী হলুদ হলো, হলুদ হলো দিন, হলুদ রঙের মাঝে শাদা দু’টো কিউরিসিটি ঢুকে গেল! শাদা মন, সাধারণ? শ্যামল মনকে ভালোবাসি৷ শ্যামল পাজেল৷ ধানের ক্ষেতের মতো, শ্যামল ফুলের মতো, শ্যামল সন্ধ্যের মতো৷ একা হতে হতে তুমি ফিরে যাও পুরনো জলের তীরে৷ মিশে যাও জলজ প্রাণীদের ভীড়ে৷ কত মীন— ভেসে হাবুডুবু লুটোপুটি—৷

(61)

সাম্য রাইয়ান জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাঙলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায়৷
জন্মতারিখ: ৩০ ডিসেম্বর
সম্পাদিত লিটলম্যাগ: বিন্দু (২০০৬ থেকে চলমান)
প্রকাশিত পুস্তিকা: সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট (গদ্য), বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা (কবিতা), মার্কস যদি জানতেন (কবিতা), হলুদ পাহাড় (কবিতা)
প্রকাশিত কবিতার বই: চোখের ভেতরে হামিং বার্ড