Home কবিতা সাকিন ও সাং
সাকিন ও সাং

সাকিন ও সাং

566
0

ক্রমশ পাখির কাছে এই গান চিরদূর হাওয়া

দূরে, হিজল ফুলের পাশে ঝরছে দুপুর—মন্দিরের পাথরের নিচে অন্ধকারের সুঠাম অশ্বেরা দৌড়ের ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছে সার ধরে, প্রত্যেকটা গাছ পাতার শান্ত নিবিড়তায় সুনসান করছে বায়ুস্তরে, তুঁতের ফলগুলো ভালোবাসে আলতো হাওয়া কিন্তু সময় তাদের পেকে তুলছে অহেতু নিরর্থকতায় যেন ডানা খসে পড়বার আগেই চারণভূমির প্রতিটা বকরির গলায় লটকে থাকা ঘন্টাতে টোকা দিয়ে যাবে তারা—এখানে ছোট ছোট গুল্মেরা শিশুদের চোখের দিকে তাকিয়েই ঘুরে আসে শরনার্থীদের নীল জেটি, জাহাজের বিপুল বিউগল, কামলার পায়ের নিচে আঁতুড় মাটি, আলতামিরার গুহায় ঘুমিয়ে যাওয়া অসুস্থ বাইসন, কলমির বেগনি আত্মায় ঝাঁক ঝাঁক উড়ে আসা করুণ ফোটন—সূর্যরশ্মির এই ভূমিতট যেখানে মন্দিরের সিঁড়ি নেমে গেছে কুঁজা মানুষের মতো বিরামহীন এক ঘন্টাধ্বনির দিকে অথচ আমাদের পাথরের ঘ্রাণ আগুনেতাইর হতে ধীরে ধীরে চলে গেল এমন সব পূরবীর দিকে যেখানে মশুরবনের রাতে মহিষেরা নেমে আসে কৃষ্ণগহ্বর থেকে আর শস্যের গুল্মজালে হারিয়ে ফেলে নতুন প্রসবের মায়া, কামলারা হাহ্ হাহ্ করতে করতে বাড়ি নিয়ে যেতে চায় তাদের, কোথাও দূরের আকাশে সমস্ত আমপারা থেকে মুহুর্মুহু উড়ে যাচ্ছে যের ও জবর—এমন মৈষাল রাতে আমরা পরস্পর কথা বলি, দিগন্তের ওইপাড়ে যে লোকটা সাইকেল নিয়ে বসে আছে একটা ঘন্টাধ্বনি শোনার জন্য, তার ছোট মেয়ে গুছিয়ে দিয়েছে ব্যাগ, যত্নে মাফলার তুলে রেখেছে গলার কাছে—বহু খনিজলিপি আর জুট মিলটার অবলীন সাইরেন, ভুলে যাওয়া তিমির পেটের নবী বারবার ধাক্কা দিয়েছে জুইয়ের চোখের নিচে—এক কুয়ার থেকে আরেক কুয়ার দূরত্বে আমরা শুনেছি আশিন তার পেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখে নদী আর দুলকি চালে হেঁটে যেতে দেয় মাঠের হেমন্তকালীন বৃষ্টিতে—শিকড়ের আর্দ্রতা, কণ্ঠিফুলের গন্ধ মাটির চাঁইয়ের নিচে চিরকাল প্রবহমান শীতঋতুর নৈঃশব্দ্য ঘুম যায়—আমরা হেঁটে যাই অতিপরিচিত গ্রামে, অনাথ শিশুরা জিজ্ঞাসা করে হারানো পিতাদের সাম্প্রতিক সাকিন-সাং, ঘূর্ণমান স মিলের সাথে সাথে পোকাদের দ্বিধান্বিত আওয়াজ আর তাদের প্রশ্নের স্বরলিপি হাওয়ারা সরিয়ে ফেলে গোধূলির শিসে—

পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আমরা হাঁটতে থাকি বাতাসের সাথে, কোথাও কুণ্ডলিত ঘাস মোষের লেজের মতো বাড়ি মারছে রোদের শরতকে, দারুহরিদ্রার কাঁটাময় ঝোপে আটকে আছে তারাদের গত রাত্রির আলো, পাখিরা ঠোঁট ঘষে ঘষে তুলে ফেলছে নাম, যে মেয়েরা ঝিরিপথ পার হয়ে লাউয়ের খোলে জমে রাখছে পানি তাদের ফেরার সময় হলে খরগোশেরা চাঁদের সমস্ত খেতে বুনে দেবে গাজরের চারা যেন কোথাও কোনো মৃত্যুর শব্দ পর্যন্তও নেই, গোরস্থানে প্রাচীন বৃক্ষের নিচে নেই কোনো অন্ধ সুরের শিস, শববাহকের পেছনে কারা যেন সন্তুর বাজিয়ে জোগাড় করছে তারার খোলস, ঘাসের মধ্যে বাতাসের অ্যাকরডিয়ান ক্লান্তিহীন অরণ্যের মতো বেজে যাচ্ছে একঘেয়ে—মিলিটারি ক্যাম্পে দু জন সৈনিক নীলিমায় নাক উঁচিয়ে প্রস্রাব করছে বুনো সব ফুলের উপর, তাদের ইউনিফর্ম থেকে বেরিয়ে আসছে ঝাঁক ঝাঁক শুয়ারের পাখি, খাঁড়ি আর জলজ প্রপাতগুলো ময়লা করে তাদের প্রস্রাব গড়িয়ে যেতে থাকে রাবারের বন, আনারশের সুগন্ধী ফুল, বাঁশের কোড়লঘেরা সন্ধ্যা, বনমোরগের ডাক, পাহাড়ি শিশুদের হাসি পর্যন্ত—এমন এক শূন্যস্থান: শুয়ারের রক্ত ঝরছে টুপটুপ করে—

খরস্রোতা নদী একটা নীল ফুলকে কতদূর ভাসিয়ে নিতে পারে! হাজার বছরের তুষার যেভাবে বাঁচিয়ে রাখে পাহাড়ের বরফচূড়া তেমন নীরবতার মধ্যে দিয়ে আমরা হেঁটে যাই ফুলের পিছন পিছন, যেকোনো মুহুর্তের সঙ্গীত তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে পলেস্তরাধ্বস্ত এক মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি, হঠাৎ ফেটে যাওয়া ঠিলার বিস্মৃত ঠান্ডার দিন—এখানে পাথরের পাশে আমাদের ঘর, পানি আনতে আমরা যা বাতাসের পাশ দিয়ে শিকড় নেমে যাওয়া এক নৈশনদীর ঢালে, কাঠগোল পেকে পেকে কালো হয় আর আজানের নিচে গুনগুন করতে থাকে একগুচ্ছ তুঁতফল—সন্ধ্যায় বকরিগুলোকে আমরা ডাক দিই পেঁপের বনের ফাঁকে শিস দিয়ে যেন কাউনের শীষ দোলাতে দোলাতে তারা দল নেমে আসতে থাকে রাধাকান্তপুরের সমস্ত তৃণখাতে, সঙ্গে আবাবিল পাখির ঝাঁক তারাগুলোকে পতঙ্গ ভেবে দ্রুত উড়ে আবার চলে যায় ডোরাকাটা অন্ধকারের দিকে, এসব ধূসর পাখি কোবাল্ট ব্লুর মায়া নিয়ে একদিন অকস্মাৎ হারিয়ে যায় শীতঋতুর পাতাঝরা স্টেশনে—তখন আকাশ মার্কারি রঙ, বিকালের মেঘের মধ্যে জ্বলছে সুদর্শন, আলোর জাফরির ফাঁকে ফাঁকে ভেসে উঠছে কার যেন কুমকুম-মায়াবীর পা, হালকা রোদের টুকরা আদর করছে নীলকে, যেন বেলায়েত খাঁ আর বিসমিল্লাহ খাঁ যুগপৎ বাজিয়ে যাচ্ছেন ভৈরবীর ধুন—আমাদের প্রতিটা ধূসরতার পিছনে যে আলোঘড়ি বাজিয়ে যাচ্ছে মন্দ্রিত সময়, কিভাবে তারা বইতে পারে মুহাজির-বিধ্বস্ত জাহাজের ঢেউ, লাইট হাউজের অনর্থক রশ্মি কেঁপে উঠছে পানির উপর—সারাটা দিন তরঙ্গমালা আছড়ে পড়লো সৈকতে, পলিথিন আর বিস্মৃতি উড়ে গেল একসাথে, একটা কচ্ছপ জেটির অনেক দূরে মৃত্যুর পাথরের উপর থেৎলানো শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে থাকলো বহুদিন, তা-ও কেউই আসলো না ফিরে—

নাকফুল খুলে রাখা কোনো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়, শত শত কামরাঙার ফুলে বসে আছে রোদ, যাত্রীছাউনির বাইরে বৃষ্টি ও লোকাল বাসের কাদা ছলকে পড়ছে গ্রীষ্মের পাতার উপর, যে শিশু স্লেটে আঁকছে তার আব্বার ফিরে আসার সাইকেল, বেলের তন্দ্রাতুর ধ্বনি, একটা শিমুলের দুপুর তাকে দিতে পারে না কিছুই! বিকালের আজান এসে ধুলার বহুচূর্ণের সঙ্গে পাক খায় আর উড়ে যায় বন্ধ্যা নদীর শীলায়, হাঁসেরা প্রস্তরীভূত হতে হতে একেকটা দিন ঘনিয়ে আসে তুমুল মহিষের চোখে, সন্ধ্যার ঘনঘটা যেন মহাসাগরের দ্বীপ থেকে উড়ে আনে আমরুল ফুলের অন্ধকার—‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তুমি আমাদের শাস্তি দিও না’—

রমনীরা নিরুচ্ছ্বল হলে বাবলার ঝাউয়ে অজস্র শাদা বিড়াল পশমে হেমন্ত নিয়ে চুপচাপ লুকিয়ে থাকে যেন হাজার হাজার কামিনী পড়ে আছে অগ্রহায়ণের উপর—হেমন্ত আসে না কাঠে তার মর্মস্পর্শী বিষাদ নিয়ে—মোরগের উদ্ভিন্ন ডাকে ঝাঁঝরা হচ্ছে সকাল—রমণীরা নিরুচ্ছ্বল হলে যোনির দ্বিচির দিয়ে কিলবিল হেঁটে যায় মথ, গভীর ঘুমে ফুটতে থাকে শাদা শাদা লাউ ফুল, বকরিরা কচুরিপানার স্রোত ধরে হেঁটে যায় সূর্যরশ্মির প্রান্তরে তারপর কুমড়ার হলুদ রেণু নাকে মেখে সেগুন বনের দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে রমণীর স্তনবৃন্তের চারপাশে বাদামী পিঁপড়ারা তাওয়াফ করছে দিনমান—

কোথাও হেমন্ত নাই—

মিলিটারি ক্যাম্পের দূরে পাহাড়ি সূর্যের নিচে মাস্টারবেট করছে যে সৈনিক, সুরভিত রমণীর টসটসে বোঁটার দিকে চেয়ে আছে যে পুলিশ জেনেভার ক্যাম্পের ছায়ায়, প্যালেস্টাইনের শিশুদের দিকে বন্দুক তাক করে আছে যে আযাযিল, অরণ্যের গভীরতা থেকে ভেসে আসা জানকীর ক্লান্তিহীন কথোপকথন তারা কেউই শোনে নি কোনোদিন—একটা সরোদ পতঝর বিকালে দলছুট হয়েও শোনাতে পারে সুর, চিরদিনের জন্য যারা ভেসে গেছে ধ্বলেশ্বরী অথবা শীতলক্ষ্যার পানিতে, নক্ষত্রের পুবালী হিংসায় পুড়ে গেছে বনানীর রোদে, ইয়েমেনে হয়েছে শহীদ, হেমন্ত-প্রস্ফুটনের প্রতিটা শব্দ উড়ে যাচ্ছে তাদের লিখিত অর্কেস্ট্রার থেকে—এফ মাইনরের মধ্যে উড়ে যাচ্ছে শতশত পুড়ে যাওয়া অর্ধ ঝলসানো মুখ, শহিদের সোনালী দু চোখ—তাঁবুর বাইরে এক রমণীর প্রতিক্ষায় আমরা ভাগ করে রেখেছিলাম নুন আর আতরের রোদ, যে পথ তৈরি হয় হেমন্ত আসার জন্যে সেখানে গরুর গোবরে লেপা হয় হাতাশের উঠান, তুমি জানো, উপত্যকা আর মালভূমি আমাদের নয় যেমন আমাদের ছিল না কোনোদিন আগুনে পুড়ে যাওয়ার বল্লম, নিজ সৈনিকের হেলমেটে বালু বহনের স্মৃতি, এস্রাজ বাজানোর সাথে সাথে শিশুদের স্লেটে লেখা আব্বার নাম ঝুরঝুর করে পড়তে থাকে দুপুরের স্তব্ধতা ভরে—

আমরা কথা বলি—কেননা ঝরাপাতায় পড়ে আছে পাখিদের শিস
আমরা কথা বলি—কেননা ভাষার মধ্যে উর্দি খুলছে অজস্র মিলিটারি
আমরা কথা বলি—কেননা শিশুদের বাক্য আসে প্রাচীন বৃক্ষের থেকে
আমরা কথা বলি—কেননা ভাষার সমস্ত অর্থকে সেলাই করছে দর্জিরা
আমরা কথা বলি—কেননা শিশুদের হাসি দিয়ে জুতা মোছে ফ্যাসিস্টেরা
আমরা কথা বলি—কেননা নীরবতা ফ্যাসিস্টের ভাষা

আমরা কথা বলি—কেননা মোজায় লুকানো ইঁদুর সারারাত চুরি করে তারা
আমরা কথা বলি—কেননা বাতাস সারাক্ষণ সঙ্গে রাখে সুরা আর রাহমান
আমরা কথা বলি—কেননা কাকতাড়ুয়ারা মন্দিরের ঘন্টার মতো একা
আমরা কথা বলি—কেননা কৃষকের হাতের রেখা সরোদের সুর দিয়ে লেখা
আমরা কথা বলি—কেননা বনের গভীরে শীত চেরাই করছে কফিন
আমরা কথা বলি—কেননা সূর্যের সঙ্গে ডুবছে কালো কালো মোষ
আমরা কথা বলি—কেননা গ্রীষ্ম পরে আছে মখমলের বিষাদ
আমরা কথা বলি—কেননা মৃত্যুর মধ্যে উল ছড়াচ্ছে পাঁচ শ শাদা বিড়াল
আমরা কথা বলি—কেননা ডাকবাক্সে কোনো ছিল না চিঠি কল্পনা চাকমার
আমরা কথা বলি—কেননা ধর্ষিতার স্তনে ঘুমায় পবিত্র কাকাতুয়া
আমরা কথা বলি—কেননা লাল পোস্টবক্সে সূর্য ডুবছে প্রতিদিন

আমরা কথা বলি কেননা—গান তার অশ্রুর আত্মায় ভর দিয়ে উঠে যায় রোদের হাওয়ায়, অরণ্যের গভীরে, পাতার কল্লোলিত অর্কেস্ট্রায় ঝরে পড়তে থাকে শীতঋতুর কাসিদা যেন আলতামিরার বাইসন বিকালের শিস ভেদ করে দৌড়ে যাচ্ছে প্রাচীন ঘাসের কোনো মাঠে, হাওয়ারা শিরশির বুনো ঘাসের অস্তিত্বকে কাঁপিয়ে যায় দিনমান, পতঙ্গেরা ভাঙা কোনো খোঁড়ল থেকে বেরিয়ে এসে দেখতে পায় আশ্চর্য স্ফুটনোন্মুখ নীল কণ্ঠির ঝাড় ভেসে উঠেছে পুরাটা এপ্রিল জুড়েই—

তোমার ফিরে আসার সরু পথ চিরকাল দুলছে সাঁকোর ওপার, নিম বাগানের দিন তুমি মাড়িয়ে গিয়েছিলে সন্ধ্যায়, সুনসান রাস্তা, খোলা আকাশের নিচনে তারার ভাগাড়, মহাকালের কাদার মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে তুমি শুঙেছিলে মরা পুষ্পের গন্ধে ফুলে উঠছে অর্কিডের বাজার, বসন্তের পোস্টকার্ড খুলে যেভাবে তারাদের পাঠানো আলো দেখে নেয় দূরের বাতাস , মাতাই হাকড়—যেভাবে রিক্সার হঠাৎ পড়ে যাওয়া চেন তুলতে তুলতে কারো মনে পড়ে যায় মেয়েটার পোকা খাওয়া দাঁতে আব্বা আব্বা ডাক সেভাবে জঙ্গলের গ্রীবার মধ্যে শুয়ে তোমারও মনে হবে, চলে যাওয়া হেমন্তের রোদে আম্মার হাতবালা চক্রাকার উড়ে যাচ্ছে মিলিটারি উর্দির পাশে, ধুধুল তনুর বিষাদ একটা ঘড়ির মধ্যে ঢুকে ভোঁতা করছে সময়, সাইকেলের ভাঙা নাট গড়াতে গড়াতে ছায়াচ্ছন্ন উঠান, ধান-উনুনের বীথি, কাগনা ফুলের হ্রদ, জাহাজের পরিত্যক্ত জেটি হয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় সোনার লেবুর বন—তুমি জানো, সরোদের প্রতিটা তার বেয়ে নেমে আসছে তারার জিরাফ, মাঝে মাঝে পর্দা সরালে তুমি দেখতে পাও ঘাসের তরণীর উপর তোমার লাশ আনগ্ন হুইসেলের মতো বেজে উঠছে, কতগুলো পিঁপড়া যোনির মধ্যে দিয়ে চলে যাচ্ছে জবাগাছ পর্যন্ত—বৃষ্টি শেষের পর কতগুলো খরগোশ চুমু খাচ্ছে তোমার আত্মার উপর—আর মিলিটারিদের লিঙ্গমূর্তির পাশেই হো হো হাসছে একজন ফ্যাসিস্ট—

সীমাহীন আরণ্যকতার মধ্যে আমরা হেঁটে যেতে থাকি, কতদূর ছায়ালীন মরা পাতা, খরগোশের ছোট ছোট দল রোদকে কামড়ে দেওয়ার ভান করে লাফ দিচ্ছে নিয়রে, কুয়াশার নৈঃসঙ্গ্যের উপর—এখানে বিপুল খেশারির পাশে নদীর ঢেউ, কামলাদের ফেলে রাখা শুকনা গুল্মের স্তূপ, অনন্ত মশুরের খেতে বকরিদের লাফিয়ে চলা খাঁড়ির তরঙ্গ, বহুদূর বাতাসে আগরবাতির ঘ্রাণ আগাছার পেঁচিয়ে ওঠার ফাঁকে আমাদের মনে করিয়ে দেয় কোনো নিঃসঙ্গ কবরের কথা যেখানে মহীরুহের পাশে সুদীর্ঘ বিস্মৃতি আর চিরন্তন বৃত্তের মধ্যে ধীরে ধীরে চূর্ণ হওয়া পাখিদের কোলাহলহীন অবসর কোথাও উড়ে গিয়ে তৈরী করছে সমুদ্রকরোজ্জ্বল এক ঢেউ—চিরনৈঃসঙ্গ্যের মধ্যে যে ঘর একা, যে ঘর লতানো গুল্মের ছায়ায় বহুদিন পরিত্যক্ত সেখানে ধুলারশ্মির উড্ডীয়মান রাস্তাও পৌঁছে দেবে না সমুদ্রের লাইটহাইজ পর্যন্ত, কেননা জাহাজ চলে গেছে হিম তুষার আর বুনো মদের মতো রমনীর উরু বেয়ে—পুরনো কবরের হিম তোমাকে দিয়েছিল গেরস্থালির কাঠ, ঠিলার শান্ত পানি, নিস্তব্ধতার মধ্যে কথা বলার এক সুপেয় হৃদয়—অথচ চাপকল বেয়ে যে মেয়েটা গোছল করছে শ্যালোমেশিনের আড়ালে, বাচ্চা ছাগলের বেঘোর তন্দ্রার মতো তার কোমর তুমি ছুঁতে চেয়েছিলে গোরস্থানের বিটপীর নিচে—

কেউই ফেরে না, না শূন্যতা না ভাষার অসমাপ্ততা—

এই আরণ্যকতার ভেতর তুমি ঝাঁপ দিয়েছিলে গহীন শৈশবে, ফেরেশতাদের পালককে ভেবেছিলে মালহার, বাষ্পময় গমের শিস ছিল তোমার পায়ের প্রতিধ্বনি, অন্ধকারের স্বাদু স্তনে তুমি হাত দাও মহৎ বাতাসের মতো, ভালোবাসা একঘেয়ে হলে তুমি ভাবো একটা পরিবর্তিত মুখ শিস দিয়ে চলে যাক পাকা পাকা তুঁতবাগানের ভারে অবনত হাওয়ার দিকে, আসা ও যাওয়ায় আমাদের তৈরী হলো যে সাকিন সাং কবরের সুমিষ্ট বন তাকে দু ভাগ করে শব্দহীন এপিটাফে—

অথচ মাদী কুকুরের মতো একটা দুপুর পা ফাঁক করে শুয়ে ছিল কবরের পাশে—এখানে গোরখোদকেরা কোদালে কেটে যায় ঝরাপাতার মর্মর, নিমের শাদা ফুলে নীরবতার গোল গোল বিন্দু জমে স্বীয় ডিলেমায় তাকিয়ে থাকে নিজেরই প্রতারণার দিকে, হুইসেলগুলো লাফিয়ে পড়ে ভেঁপু থেকে আর আত্মহত্যা করে পাহাড়ের গায়ে মাথা থেৎলে দিয়ে, মাছেরা শরীরে সমুদ্র নিয়ে উড়ে এলে আমাদের আকাশ নীল চোখ মেয়েদের মতো আরো বিষণ্নতায় ভোগে, গভীর অরণ্যের মাঝখানে যেমন একটা মন্দির বহুকালের বিস্মৃতি সরিয়ে আবার গ্রানাইট পাথরের উপর ঝরতে দেয় কাগনার ফুল, যেমন একটা মথ দূর বসন্তের জন্য পাতায় পেঁচিয়ে রাখে জেলেদের বজরা-হাওয়ার সবুজ—শালিখার প্রান্তরে শূন্যতাও বিষণ্ন করতে পারে তামাম বৃক্ষের ছায়া যেন কোথাও একটা বাতাসের আতাগাছ তার পত্রঝড়ের নিচে ফুঁপিয়ে কাঁদছে—একটা মসজিদের ধু ধু বারান্দায় কে যেন কোরান মাজিদ খুলে রেখে চলে গেছে শান্ত হ্রদের দিকে আর বাতাসে উড়ছে সুর ইউসুফ, যেন ঢেঁড়শ ফুলের বাগানে তোমার ঘুম শুয়ে আছে ক্লান্ত তিতিরের মতো—

‘বাদশাহ বললো: আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটা মোটাতাজা গাভীকে খেয়ে ফেলছে সাতটা শীর্ণ গাভী এবং শুকনা শীষ খেয়ে ফেলছে সবুজ শীষগুলোকে—হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে বলো আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় হয়ে থাক পারদর্শী—তারা বলল: এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন— আমাদের জানা নেই এমন স্বপ্নের ব্যাখ্যা—দুই জন কারারুদ্ধের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর স্মরণ হলে, সে বলল, আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলছি—তোমরা আমাকে প্রেরণ কর—সেখানে পৌঁছে সে বলল: হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটা মোটাতাজা গাভী তাদেরকে খাচ্ছে সাতটা শীর্ণ গাভী এবং সাতটা সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক—আপনি আমাদেরকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে পথ নির্দেশ করুন যাতে আমি ফিরে গিয়ে তাদের জানাতে পারি—ইউসুফ বললো, তোমরা সাত বছর উত্তম রূপে চাষাবাদ করবে, অতঃপর যা কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা খাবে তা ছাড়া রেখে দেবে অবশিষ্ট শস্য শীষসমেত এবং এরপর আসবে দূর্ভিক্ষের সাত বছর, তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে—এর পরেই আসবে এক বছর এতে মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এতে তারা নিঙরাবে রস’

মৃত্যুকে পিতরাজ বীজের মতো খয়েরি কি মনে হয় তোমার—?

গোস্ত দোকানের ওই বিহারি লোকটার মতো কাউনের দুলে যাওয়া শীষের উপর আবাবিল পাখির ওড়াকে যার চোখ থেকে ধুয়ে ফেলতে পারে না গত চৈত্রের বাতাস, কোথাও তারও মরণ বনের মাঝখানে সেইসব দূরগামী রাস্তার মতো নয় যেখানে তার আম্মি গমের রুটিতে ফুঁ দিয়ে ছড়িয়ে দেবে ফেরেশতার আতর, আল্লার আরশের পাশে অজস্র কণ্ঠিফুল নাভীমূলে পানির ঘাঘরা নিয়ে ফুটে থাকবে দূরে—

সমুদ্র তার নিরাকূল সঞ্চারণশীলতা ছড়িয়ে দিতে ভালোবাসে নারকেল জিঞ্জিরার মধ্যে, সাম্পান নৌকার সারি ফেরেশতাদের ঘুমের মতো শাদা ওই দিগন্তে দুলছে আর ক্রমনীল সৈকতে ধোপা মেয়েরা প্রতিদিন লক্ষ্য রাখে একজন পুরুষের দিকে—জামরুলের চেহারার মতো যে একা—প্রতিদিন বেলাভূমির ধূসরতা থেকে ছিটকে পড়ছে লেবুবাগানের স্মৃতি, একটা বাড়ির কথা ভাবতে ভাবতে সমুদ্র তাকে দিতে থাকে জেলেদের বিগত গান, সাম্পানের খোলভর্তি স্থানীয় মদের শীত, শামুকের শুকনা খোলসের মধ্যে দূরের সেই বাড়ির অস্তমিত সূর্যের নিচে খোলা জানালা, গ্রীষ্মের শুরুতে তেলশুর বীথির ধুনা গন্ধের ছায়া—তার হাতঘড়ি খোলার মুহুর্তকেও খেয়াল করে অনন্তর ধোপা মেয়েরা—

এভাবেই দুপুরের শব্দহীন মর্মস্থলে ঢেউয়ের মিছিল তাকে ছিটকে দেয় কেয়াবনের প্রবালের দিকে, —এভাবেই দুপুরের শব্দহীন মর্মস্তলে প্লাস্টিকের গড়িয়ে যাওয়া বোতল বাতাসের মধ্যে সুড়ঙ্গ কেটে কেটে তাকে নিয়ে যায় সমাধিক্ষেত্রের দিকে, সুপারির বিশুদ্ধ বাতাস সরিয়ে দেয় ধুলা, টিনের এপিটাফ ঝনঝন করে উড়তে থাকে তার চোখের ভেতর—

এভাবেই দুপুরের শব্দহীন মর্মস্তলে ছোট মেয়েটার জুতা পুড়তে পুড়তে হঠাৎ আকন্দ ফুলের মতো উড়ে যায় সবুজ জলাশয় আর বিশাল অরণ্যের নিঃসঙ্গ ধ্বনি পার হয়ে ফেরেশতাদের সুরমার দিকে—

এভাবেই দুপুরের শব্দহীন মর্মস্তলে সমুদ্রের তীর্যক ঢেউ কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে এগিয়ে আসছে লোকটার দিকে, স্ত্রীর পুড়ে যাওয়া চুমু তলিয়ে যাচ্ছে দূরের কোনো বাড়ির ভাঙা জানালার কাচে—ক্রমলীন সৈকতে ধোপা মেয়েরা প্রতিদিন তাকিয়ে দেখছে নির্জনতায় শান্ত বালির উপর লোকটা এপিটাফ লিখছে একা একা—তারপর, দূরের মসজিদে প্রাচীন হাওয়ার স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় সূর্য নেই আর, সমুদ্রের ঢেউ তখনো উজ্জ্বল হয়ে আছড়ে পড়ছে অ্যাশ কালারের সন্ধ্যায়, পোড়ো ইটের বাদামী গুল্মের গায়ে পিতলের ঘন্টার রেণু লেগে আছে বহুকাল ধরে, একটা সাপ তার দীর্ঘ শীতকালের খোলস ছেড়ে ঝরাপাতার মধ্যে নির্জনতা উশকে দিয়ে চলে যাচ্ছে পাথরের কবরের দিকে, যেন মৃত্যু ডুমুরকষের মতো লেগে ছিল অনেক বছর ধরে গামারির চকমকে পাথরের নিচে—না, নীরবতার বাইরে আর কোনো শব্দের কাসিদাই বাজে নি এখানে, কারণ, ধুলায় থামিয়ে ঘোড়া কলেরায় মৃত কোনো নাবিকের ক্রমশ ঠান্ডা শরীর কারা যেন রোদের উত্তাপ, ভ্যাঁপসা হাওয়ার খাড়া রাত আর মাশরুমের বিষাক্ত প্রতিধ্বনি পার হয়ে নিয়ে এসেছিল শূন্যতার মঞ্জরির ছায়ায়—

পর্তুগীজ অথবা ডাচ নাবিকের ঝাপসা বিস্মৃতির পাশে যে সমুদ্র দুলে ওঠে তারই বন্দরে অনেক ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীর ফেননিভ কণ্ঠস্বর উবে যাচ্ছে জুলকারনাইনের কাদায় ডোবা সূর্যের মতো—এখানে নদীর সোঁতায়, দিনের শেষ পানিকাউরের ওড়ে যাওয়া আমাদেরকে জাগিয়ে তোলে এমন এক নতুন দেশে যেখানে মৃত্যুর বহু আগেই আমরা ছিলাম ফেরাউনের হিংসার মতো কালো এক মহিষের পিঠে যে আমাদের পার করে দিয়েছিল কয়ারের গাঢ়-ধূসর রাত, খেশারির সুষুপ্তির মধ্যে আমরা জেগে উঠি সকালের সরু রাস্তায় পেছনে জিগার গাছের বন, ধানপালনের স্মৃতি, উনুনে কানোছ মাছের ঝোল—

তোমার স্বপ্নের মধ্যে একটা রাস্তা চলে গেছে অয়নরেখার বরাবর, তুমি খুঁজে দেখো রাস্তার শেষ সীমানায় একা বাড়ি, ভেড়ারা চরছে উপত্যকার বৃক্ষরেখা ধরে, শান্ত নদীর পানি উন্মুক্ত করছে স্তনের প্রতিবেশ—তুমি দূরতম খাঁড়ির কাছে দাঁড়ালেই শুনতে পাও একজন কসাইয়ের মেয়ে হারিয়ে গেছে লটকন বাগানের থেকে, সাঁওতাল মেয়েটার স্তন জুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে আর নীল এক সদ্য পালতোলা নৌকা ভিড়ছে তার বোঁটার হ্রেষার কাছে—তুমি জানো, যেকোনো মৃত্যুই হ্রদের নিঃশব্দ স্রোতের পাশে একটা পাহাড়ি পাখি নয় যে তোমাকে নিয়ে যেতে পারে অন্ধতীর জুড়ে একটা হিজল গাছের কাছে, পাশেই ফুঁপিয়ে কান্নার মতো প্রবাহিত একটা ছোট নদী, জেলেরা বাঁশপাতারি মাছ তুলে রাখছে আকাঙ্ক্ষাহীন ভঙ্গিতে, পাতা শোরার পরে মক্তবের পাশ দিয়ে যেতে যেতে কেউ হয়তো জঙ্গলের পুষ্কনিতে দেখে নেবে জীবনের সুমিষ্ট স্তনে কারো হাতের মমতার আঙুল স্তোত্রপাঠের মতো বুলিয়ে যাচ্ছে কালো কোহিনূর—কাদায় অঙ্কুরোদ্গমের উপর সেইসব স্পর্শ ফিরে ফিরে

আসে কিন্তু সে আসে না কোথাও—শনিবার, মঙ্গলবার—ঘেরা জঙ্গলের এই পুষ্কনির মধ্যে রাত তার দুর্দান্ত মহিষ নিয়ে নেমে যায় পানিতে আর তোমার নাভীমূলের সৌরভে ম ম করে বনভূমি, দিন তার নুনের বাতাস এলিয়ে দেয় যোনির ছায়ায়—

তোমার সাকিন-সাং হারিয়েছো পাহারের খাঁড়িতে, সমুদ্রতীরবর্তী রোহিঙ্গা মানুষের পল্লবে, ক্যাম্পের হেমন্তে তুমি ঝোপগুলোকে সাজিয়ে রেখেছিলে বজরাডুবির কাঠ দিয়ে—কাপড়ের বণিক তোমাকে দিতে চেয়েছিল চিনার গাছের অরণ্য, কাবাবেব ঘ্রাণ-বিক্রেতা তোমাকে বখশে দিয়েছিল সলমাজরির কাজ—তৃণখাতে চরে বেড়ানো তোমার বকরির বাচ্চা সারারাত ঘুমায় নি বলে মিষ্টি জিভ দিয়ে চেটেছিল তোমার চিবুক—

তোমার সাকিন-সাং হারিয়েছো সিরিয়ার হাওয়ায়, শরনার্থীদের ওক আর পাইনের বনে, দ্রাক্ষাকুঞ্জে তুমি সাজিয়ে রেখেছিলে মৌমাছিদের শুকিয়ে যাওয়া স্তন, নদীস্রোতে মৌয়ালদল কবেই চলে গেছে সুন্দরবন ছেড়ে দৃষ্টি-আক্রান্ত সমাধিবীথির দূরে—উরুতে বৃষ্টির ফোঁটা নিয়ে শৈশবের বড় সেই গাছটার নিচে কোনোদিনই ফিরতে পারবে না তুমি, সেখানে শস্যবীজ, মৃত সোয়ালো পাখির নিঃশ্বাস পচে যাচ্ছে উপত্যকার ভ্যাঁপসা বাতাসে—

তোমার সাকিন-সাং হারিয়েছো সাজেকের হ্রদে, শ্বেতিগ্রস্ত মেঘদল, বুনো লাউয়ের ছায়া আর রুইলুই পাহাড়ের কাঁটাঝোপে মৃত্যুর নশ্বরতা হলুদ প্রস্রাব করেছে কতদিন, লতাগুল্মের নিচে মিলিটারির স্তব্ধ কুঁজ উঁচু হয়ে আছে হস্তমৈথুনের মতন—তোমার খাঁড়ি ও কমলার বন হারিয়েছে নীরব পত্রঝড়—একজন ফ্যাসিস্ট অনায়াসে হতে পারে সার্কাসের প্রধান চরিত্র, নিতম্ব উঁচিয়ে দেখাতে পারে ধানের সুডৌল বাতাস আর আমাদের হেমন্ত বুড়া ট্রাপিজ মাস্টার ছাড়া আর কিছুই নয়—আমাদের ঝরাপাতার মক্তব, শালের দু পাশ দিয়ে টলমল নদী, দাঁড়কে বাঁধার স্রোত, রাতের বর্ষণের পর তুমি নেমে এসো এইসব হেঁতাল সূর্যের বনে—

ও মেয়ে তোমার ঠিকানা লেখা দুই ভুরুপাখি পর—

 

বি. দ্র. (দীর্ঘ কবিতার অংশ বিশেষ)

(566)

ট্যাগসমূহ:
হাসান রোবায়েত জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া।
শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী আজিজুল হক কলেজ; বগুড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকাশিত বই — ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [কবিতা; চৈতন্য, ২০১৬] ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [ভারতীয় সংস্করণ, বৈভাষিক, ২০১৮] মীনগন্ধের তারা [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮] আনোখা নদী [কবিতা; তবুও প্রয়াস, কলকাতা, ২০১৮] এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে [কবিতা; ঢাকাপ্রকাশ, ২০১৮] মাধুডাঙাতীরে [কবিতা; ঐতিহ্য, ২০২০]