Home কবিতা হেমন্তের এলিজি
হেমন্তের এলিজি

হেমন্তের এলিজি

97
0

হেমন্তের এলিজি

সমুদ্র ক্লান্ত বিকেল
ঘরে ফিরি,জলের ঝাপটা দিই
ঘাম নুন ধুয়ে  ঠান্ডা, শান্তি- শান্তি
তোমার কথাই কেন মনে পড়ে?

তোমার বাগানে শুয়ে
শুনি প্রিয় মাইকেল, স্যাক্সোফোনে বাজে।

তারারা ভুলেছে পথ
শহরে অকালসন্ধ্যা এখন
পুরাণ শরীর থেকে ছেঁকে নেয়
মৃত ভস্ম সাদা হাড়
পাঁজর প্রলাপ নিয়ে প্রাসাদ গড়েছে
নৈশনাবিক।
লাভার স্রোতের গর্ভ উছলে উঠে
পানপাত্রে ঝলকায় সোনালি বিয়ার।
এখন সময় দিশাহীন শ্মশান।

এর চাইতে বরং ভালো
বিবাগী স্টেশন
নৈশ ট্রেন গ্লানিহীন নিয়ে ফ্যালে দূরে কোনো
হেমন্ত স্টেশনে
স্পর্শে স্পর্শে হিম লেগে ঘুম ভাঙে।

কেন তোমার কথাই মনে পড়ে!


ছায়া হও

কস্তুরি কামিনী হও, থেকোনা আড়ালে।
আর কোনো দ্বিধা নয়
চাইলেই ছায়া দিও
চেতনা নাগালে।

বুড়ো বট ছায়া ছেনে বিশুদ্ধ ঘুমালে
প্রবাহিনী একা হয়।
যদিও সহজ এক হাওয়া বয়-
তোমার গোলাপে কূট
কাঁটা বিধে ব্যথা হয়
নম্রতা হারালে।

আজ কোনো দ্বিধা নয়
বরং সহজ হও।
দুপুর গড়িয়ে যদি
গোধূলি নরম হয়
একবার ছায়া হও।

কস্তুরি কামিনী হও
থেকোনা আড়ালে।


নিলাম

দূরে যাও, আরো দূরে পাড়ি দিয়ে
ভালোবাসা নিয়ে এসো
দু’হাতে  কুড়িয়ে।
দিন গেলে সব ঋণ একদিন
যাবেই ফুরিয়ে।

ছেড়েছি সাবেক বাঁচা সাবেক রীতি
সাংসারী বেসাতি নিলামে চড়িয়ে বুঝি
করাঘাতে মুছে গেছে সিঁথি।

দূরে যাবে বকখালি, মধুপুর?
আকাশ টেনেছে মন
হাতছানি দেয়
হাওয়া বাড়ি, নদী সমুদ্দুর।

যাব ঠিক,
ভালোবাসা নিয়ে আর করিনা বেসাতি
কড়ি গুনে বিকিয়েছি
সংসারী এলেবেলে স্মৃতি।

দূরে চলো ভালোবাসা
খুঁজে নেব প্রেমের হলুদ ফুল
বিনামূল্যে পেয়ে যাব
হাওয়া বাড়ি নদী সমুদ্দুর।


ইউটোপিয়া

আমি তোমার সীমান্ত ধরে আছি
তুমি  যন্ত্রণার আত্মজীবনী লিখছ।

অর্ডার সাপ্লাইয়ের সাপলুডো খেলছ,
আর আমার ভিতরে একটা পূর্ণিমা
ডুবে ডুবে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।

আমি বিশল্যকরণী খুঁজতে বেরিয়েছি
ভিজে ডানা আর্দ্রতায় ছটফট করছি
আর তোমার শিরদাঁড়ায় ব্যর্থতার কামড়
শঠ রাত্রি, স্বপ্নে তুমি ভুল নারীকে চুম্বন।

আমরা চাকার কথা ভুলতে চাইছি
আমি মাছরাঙার নীল গল্প শোনাচ্ছি
তুমি ইনকাদের গোপন ঘরবাড়ি খুঁজছ
সূর্যের আগুন থেকে নেমে আসুক স্নান
বিশুদ্ধ হব, দুবাহুতে তুলে নেব সপ্তপদী চাঁদ।

মহাবিশ্বে এখন আর তৃণপ্রান্তর নেই
যাযাবরের অতৃপ্তি মানুষের শিরায় শিরায়।


অপ্রত্যয়

একটা অবিশ্বাসের দেশে যেন ঢুকে গেলে
বিশ্বাস দরজা ঠেলে, স্মৃতিদের বুকের উপর
প্রত্যয়ী বুলডোজার চালিয়ে।

তোমার চোখ লাল,চুল উস্কোখুস্কো
গ্রীসের কোনো প্রাচীন ভাস্কর্য যেমন
তোমার মুখের বলিরেখা।
পদক্ষেপ ঋজু, ততটাই
কোনো ধর্মযাজককে যতটা মানায়,
প্রত্যয়ে স্থির চোয়াল।

অথচ ভেবে দেখো,
পৃথিবীতে শুরু বলে কি কিছু হয়?

মহাবিশ্ব অনন্ত….
এপাশে দাঁড়িয়ে যাকে কালো দেখলে
ওপাশে দাঁড়িয়ে দেখো  কত সাদা!

তোমার চোয়াল কঠিন
যেন মায়ের স্নেহ না পাওয়া কিশোর।

পিছনে পড়ে রইল  অনাবিষ্কৃত তারকালোক,
এক অনাবাদী কৃষিক্ষেত্র।
মানুষকে বুকের ওম দিয়ে ভালোবাসলে দেখতে
কচি ধানের চারায় ভরে গেছে আদিগন্ত,
দেখতে, কালপুরুষের বুকে জ্বলে উঠেছে
সেই পরম আশ্চর্য নক্ষত্রের  আলো……

(97)

গার্গী সেনগুপ্ত পেশা শিক্ষকতা।
জন্ম ও বসবাস - মধ্যগ্রাম, কলকাতা
লেখালেখি, আবৃত্তি ও অভিনয় নিয়ে কাজ করেন। লেখালেখির সূত্রে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে ভ্রমণ করেছেন।
নির্মলেন্দু গুণ, মহম্মদ নুরুল হুদা ও মজিদ মাহমুদ এর স্নেহধন্য।